‘বিএনপির ২৮ অক্টোবর সমাবেশ পরবর্তী তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫৩৪টি মামলা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এসব মামলায় প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।' তবে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ সংখ্যাকে ১১ হাজার বলে দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর পর্যবেক্ষক শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেছেন সংগঠনটির চেয়ারপারসন জেড আই খান পান্না। রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় আসক।
লিখিত বক্তব্যে আসকের নির্বাহী পরিচালক ফারুক ফয়সাল বলেন, ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে দমনপীড়ন, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মীদের আন্দোলনও চলছে দমনপীড়ন। এছাড়াও সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের নেতাদের বিচারিক হয়রানি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিক্ষোভ আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের হয়রানি, ভয় দেখানো এবং বেআইনিভাবে আটক রাখার অভিযোগ সামনে এসেছে।
এছাড়াও গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ২৪১টি যানবাহন ভাঙচুর, ৩৭৬টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতে ১২৩টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে। কারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানায় তারা।
এদিকে দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড শিকার হয়েছেন ২০জন। এছাড়াও পুলিশের হেফাজতে ১৩জন, র্যাবের হেফাজতে ২জন, গোয়েন্দা হেফাজতে ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারনে মারা গেছেন ১০৫ জন। তাদের মধ্যে কয়েদি ৪২জন ও হাজতি ৬৩ জন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল করিম ও সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি।
