সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রতিবন্ধী উল্লাসের বিসিএস জয়

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২১ পিএম

হাত ও পা বাঁকা হওয়ার কারণে হাতে লিখতে সমস্যা হয়। ডান হাতে কোনো শক্তি পান না শারীরিক প্রতিবন্ধী উল্লাস পাল। হাঁটতেও সমস্যা হয়। তবে নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক মনে করেন উল্লাস। এই চিন্তা থেক  প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষা দেননি তিনি।

এবার সেই মানসিকতার বলে সাধারণ প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন উল্লাস। এর আগেও ৪০তম বিসিএস ও ৪১তম বিসিএসেও মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ৪০তম বিসিএসে পাস করলেও ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কোনো পদেই সুপারিশ পাননি।

জন্মগতভাবেই উল্লাসের দুই হাত ও দুই পা বাঁকা ছিল। মা-বাবা চিকিৎসা করিয়েছেন, নেওয়া হয়েছিল ভারতেও। তবে ফলাফল যা-তাই।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা উল্লাস পাল। উপজেলার কার্তিকপুর পালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু উল্লাসের। কার্তিকপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। নর্দান কলেজ বাংলাদেশ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পান। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত।

উল্লাস পাল বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ওপর কারও হাত নেই। আমরা চাই আমাদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে বিকশিত হতে, আমাদের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে।

তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক ও সুস্থ প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এত দূর এসেছি। হাত ও পা বাঁকা হওয়ার কারণে হাতে লিখতে সমস্যা হয়, ডান হাতে কোনো শক্তি পাই না। হাঁটতেও সমস্যা হয়। কিন্তু কখনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী কোটা নেওয়ার কথা চিন্তাও করিনি। মানসিকভাবে নিজেকে অন্য আর দশজনের মতো সুস্থ মনে করি। তবে অনেক বাধা এসেছিল, সেগুলো টপকে এত দূর এগিয়ে এসেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত