'গতকাইল ভোর ৬টায় আইছি। সকালের নাস্তা, দুপুর রাইতের খাওনডা ঠিকমতো খাইতে পারি নাই। সারারাইত বেঞ্চিতে শুয়ে মশার কামড় খাইছি। আইজ সারাদিন একই অবস্থা। নিজের ভোটটা দিতে পারতেছিনা। কষ্ট নাই। মানুষের আমানত (ভোট) রক্ষার দায়িত্বে আছি।'
যাত্রাবাড়ী শহীদ জিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এভাবেই নিজের আক্ষেপ ও কষ্টের কথা বলছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মো. শহীদ (৪২)। স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে তার সংসার। থাকেন ধলপুরে একটি ভাড়া বাসায়। কেন্দ্রের নিচে দেশ রূপান্তরের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ধলপুরে একটি চায়ের দোকান চালান তিনি। যে আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে। গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে তিনটি নির্বাচনে (দুটি জাতীয় ও একটি সিটি করপোরেশন মেয়র নির্বাচন) দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু যে কয়েক হাজার টাকা পান তার তুলনায় পরিশ্রম অনেক বেশি। নির্ঘুম থাকতে হয়। জীবনের ঝুঁকিও আছে। তিনি বলেন, 'আমার নিজের ভোট ধলপুরের একটি কেন্দ্রে। শেষ কবে ভোট দিছি মনে নাই। আইজকাও চিন্তা করছি নিজের ভোটটা দিতে যাই। কিন্তু মনে হইলো আমিতো আরেকজনের আমানত রক্ষা করতে আইছি। এবারও ভোটটা দেওয়া হইলোনা।'
তার পাশে থাকা মো. বিজয় (১৮) নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন রাতদিন। তিনিও পরিবারের সঙ্গে থাকেন ধলপুরে। পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় এই বয়সেই এমন দায়িত্বে আসতে হয়েছে। রাজধানীর কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বিজয়ের একই সঙ্গে আনন্দ আর কষ্ট। আনন্দ আর উত্তেজনার উপলক্ষ হলো নির্বাচনের মতো এমন দিনে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য নির্ঘুম রাত আর অর্ধাহারে থাকার কষ্ট। তিনি বলেন, 'বাবা-মায়ের স্বপ্ন আমি একদিন বড় অফিসার হব। নির্বাচনে অনেক অফিসার দেখছি। আমিও এই অফিসারদের মতো হতে চাই। সেজন্য এই কঠিন দায়িত্বে আসছি।'
