ভোটের দিন ঢাকার রাস্তা ফাঁকা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৭ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন কিছু বাস, প্রাইভেটকার ও রিকশা চললেও রাজধানীর ঢাকা প্রায় ফাঁকা। ভোট দিতে যাওয়ার জন্য অথবা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ বের হচ্ছেন না। এছাড়া রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। যে কয়েকটি বাস চলছে তাতেও নেই যাত্রীর চাপ।

নানান উৎকণ্ঠার নির্বাচনের ভোটের দিন চলছে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতাল। এছাড়াও রবিবার ভোট গ্রহণের দিন। সব মিলিয়ে ঢাকার রাস্তায় নেই গাড়ির কোনো চাপ। এছাড়া ভোটের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় চাকুরীজীবী মানুষজন বের হয়েছেন কম। অন্যদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কথা ভেবে রাজধানীতে শনিবার থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। এই নির্দেশনায় প্রতিদিন রাস্তা মোটরসাইকেলে পরিপূর্ণ থাকলেও আজ সকাল থেকে চোখে পড়েনি মোটরসাইকেল। এদিকে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল দলকে টহল দিতে দেখা গেছে। দেখা গেছে, র‍্যাবের টহল দল।

রবিবার ১০টা থেকে রাজধানীর মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটসহ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

ফার্মগেটে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি ও তার স্ত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। আনোয়ার বলেন, তার স্ত্রী গাজীপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। সোমবার সকালে তার অফিস থাকায় তাকে বাসে উঠিয়ে দিতে এসেছি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বাস পাচ্ছি না। আজকেই বাস পাচ্ছি না; রবিবার এরকম হবে না তার গ্যারান্টি কি?

ফার্মগেটে দায়িত্বরত সার্জেন্ট আব্দুস সালাম জানান, সাধারণত ফার্মগেটে এমন দৃশ্য দেখা যায় না। সবসময় গাড়ির চাপ থাকে। আসলে গতকাল শনিবার থেকেই গাড়ির চাপ কমে গেছে। তারপরও আমরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাকরাইল মোড়ে রমজান পরিবহনের চালক ফারুক হোসেন জানান, সকাল ৭টায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, কিন্তু যাত্রী নেই। মাত্র ৩০০ টাকা রোজগার হয়েছে এই সময়ের মধ্যে। সকাল পৌনে ১১টায় পল্টন মোড়ে গাজীপুর পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টায় গাজীপুর থেকে বের হয়েছেন। তবে সেভাবে যাত্রী পাননি তিনি। আজকে তেলের টাকা তার পকেট থেকে দিতে হবে বলে মনে করছেন তিনি। সকাল সোয়া ১১টার দিকে শাহবাগে সাভারগামী ওয়েলকাম পরিবহনের চালক মোহাম্মদ রুবেল বলেন, শনিবার থেকেই যাত্রী কম। তাই আজ গাড়ি নিয়ে বেড় হতে চাননি। কিন্তু মহাজন বলায় বের হয়েছেন। তবে কোন যাত্রী পাচ্ছেন না। 

ভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়েছেন কয়েকজন রিকশা চালক। হাফিস উদ্দিন রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন বাড্ডা থেকে। মালিবাগে এই রিকশা চালক বলেন, আজ বাস, গাড়ি, সিএনজি সেভাবে নেই। আবার রিকশাও কম। তাই তিনি বেশ কিছু যাত্রী পেয়েছেন। বেলা ১০টা পর্যন্ত তার প্রায় ৪০০ টাকার মত আয় হয়েছে। ব্যাটারি চালিত এক রিকশা চালক আমির উদ্দিন বলেন, রিকশা অল্প থাকায় তিনি যাত্রী পেয়েছেন ভালোই। তিনি বেশ কয়েকজনকে ভোটার যাত্রী পেয়েছেন।

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ভোট দিতে এসেছেন একটি পরিবার। তারা সেগুন বাগিচা এলাকায় থাকেন। সেখান থেকে রিকশা করে তারা ভোট দিতে এসেছেন। তবে তারা বলছিলেন, রিকশাও সেভাবে নেই। তাদের রিকশা পেতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। 

অন্যদিকে ভিকারুননেসা স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন মালিবাগের ডাক্তার গলি এলাকা থেকে মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমি আগে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় থাকলেও এখন থাকি ডাক্তারগলি এলাকায়। তাই রিকশায় এসেছি ভোট দিতে। তবে রাস্তায় রিকশা ও বাস কম বলে মনে হচ্ছে আজ। 

এদিকে রাস্তায় দোকান পাট বন্ধ থাকলেও রাস্তার মোড়ে বা গলির ভেতরে দোকান-পাট বসেছে। শাহবাগে রমনা পার্কের সামনে একটি চায়ের দোকানে বেশ অনেক লোকজন ভীর করেছেন। সেখানে চা-সিগারেটের পাশাপাশি হলকা নাস্তা বিক্রি হচ্ছে। সেই দোকানের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দোকানপাট আজ কম থাকায় তার দোকানে লোকজন আসছে। যারা রমনা পার্কে আসেন তারাই বেশি আসছেন। এছাড়া চলতি পথে তার দোকান দেখতে পেয়ে দাঁড়াচ্ছেন। তার দোকানে চা-সিগারেটেই চলছে বেশি।

এদিকে বাড্ডার সিএনজি অটোরিকশা চালক রুবেল ও মোহাম্মদপুরের ফয়সালের সঙ্গে কথা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালের সামনে। তারা সকালে বের হলেও যাত্রী না থাকায় ভাড়া ৪০০/৫০০ টাকা পেয়েছেন। রুবেল বলেন, গতকালও যাত্রী ছিল কম। ৮০০ টাকা দিতে চাইলেও মালিক নেয় নাই। আজও এমন হলে সমস্যা। বেশি রোজগারের আশায় নেমেছেন আজ। কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছেন তিনি।

কারওয়ান বাজার মোড়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আনোয়ার কবির বলেন, সাধারণ সময়ে কারওয়ান বাজারে যানবাহনের চাপ অনেক থাকে। তবে আজ ভিন্ন চিত্র। ধারণা করছেন, ভোটের কারণে মানুষজন অনেকে গ্রামের বাড়ি গেছেন। আর সবাইতো ভোট দিতে কাছেই যান। সে কারণে যানবাহন কম বলে মনে করছেন তিনি।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ভোটে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধে তারা মাঠে কাজ করছেন। তাদের টহল দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, ডগ স্কোয়াড, হেলিকপ্টারসহ সকল প্রস্তুতি রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত