‘বিরোধী দল’ হতে চাওয়া তৃণমূল বিএনপি জেতেনি একটি আসনেও

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৮ পিএম

‘আমরা সরকার গঠন করব। আর যদি না-ও পারি, তবে তৃণমূল বিএনপি হবে প্রধান বিরোধী দল’—গত ১৯ নভেম্বর তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন কয়েকবার। একই ধারায় কথা বলেছেন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার তৃণমূল বিএনপির নেতারা দাবি করেছিলেন, আসন সংখ্যা যদি ৫০০ হয় তাহলেও সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার সামর্থ্য আছে। 

এতো হাকডাক ছেড়েও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির ফল শূন্য। ১৩৫ আসনে লড়েও জিততে পারেনি একটি আসনেও। দলটির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী লড়াই করেছিলেন সিলেট-৬ আসনে। ওই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৭৮ ভোট। । ভোটে তৃতীয় স্থানে ছিলেন শমসের মুবিন চৌধুরী। তিনি সোনালী আঁশ প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৩৬ ভোট।

অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থী ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব নির্বাচন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আসনটিতে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন তৈমূর। মাত্র ৩১৯০ ভোট পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে জামানত হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তৈমুর আলম।

তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে একটি আসনেও নির্বাচিত হননি তৃণমূল বিএনপির কোনো প্রার্থী। কোনো আসনে জয় না পাওয়া দলটির প্রায় সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে। দলটির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ১০০ ভোটেরও কম পেয়েছেন। যেমন নাটোর-৪ আসনে দলটির প্রার্থী আব্দুল খালেক সরকার পেয়েছেন ৭২ ভোট।  

প্রয়াত মন্ত্রী নাজমুল হুদা প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন তাঁর মেয়ে অন্তরা হুদা। তাঁকে সরিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দলের প্রথম সম্মেলনে সভাপতি হন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূল বিএনপি চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্যের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত