ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলার পর দেশটির রাজধানী সানায় রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ, আগ্রাসন বিরোধী বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তারা। শুক্র ও শনিবার সানায় জড়ো হয়ে তারা এই বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ টিভি দেশটির রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন শহরের ব্যাপক বিক্ষোভ সম্প্রচার করেছে। এসব বিক্ষোভে ইয়েমেনিরা ফিলিস্তিনপন্থী এবং মার্কিনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এমনকি হুথি বিরোধীরাও এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তারা এই হামলার সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, 'আমেরিকা ও ব্রিটেনের সঙ্গে দাঁড়ানো অসম্ভব। আমরা ইয়েমেনে যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে আছি।’
আল-মাসিরাহ টিভি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছেন হুথিদের উপ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেন আল-ইজি। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি বিমানঘাঁটি, বিমানবন্দর এবং একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী। এ ছাড়া মার্কিন এবং ব্রিটিশ জাহাজ থেকেও আমাদের দেশে হামলা চালানো হয়েছে। এসব নির্লজ্জ আগ্রাসনের জন্য তাদেরকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। তাদের পরিণতি হতে ভয়াবহ।’
এদিকে শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো ইয়েমেনে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনী বলছে, এদিন ইয়েমেনে হুথিদের রাডার সাইটে হামলা চালিয়েছে তারা। একটি জাহাজ থেকে চালানো এই হামলায় টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানায় মার্কিন বাহিনী।
গত সপ্তাহে লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার পর বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে ইয়েমেনে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য। পরে জানানো হয়, অন্তত ৩০টি জায়গায় প্রায় ৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা করা হয়। হামলার পর হুথিদের পক্ষ থেকে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, সাগরে যদি পশ্চিমা জাহাজে হামলা বন্ধ না হয় তাহলে হুথিদের ওপর বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় রকমের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে ‘উত্তেজনা না বাড়ানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন।
