'স্বপ্ন ছিল মৃত্যুর আগে পাকা ঘরে ঘুমানোর। স্বপ্ন ছিল ভাঙা বাড়ির বদলে একদিন বানাব পাকা বাড়ি। যে বাড়িতে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখ বসবাস করব। এজন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রমে স্বামীকে নিয়ে লড়াই করেছি বিয়ের পর দুই দশক। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অবশেষে মুজিববর্ষে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।'
জমি নেই, ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় পাকা ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন মোসা. রিনা আক্তার (৩৬)।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে রিনা আক্তার সাজিয়েছেন সুখের সংসার। ছেলে সজিব (১৭) আর মেয়ে আমেনা (১৫) মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ভিটেমাটিহীন স্বামী কদর আলীর (৪২) সামান্য রিকশা চালানোর আয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে টানাপড়নের মধ্য দিয়ে চলত তাদের সংসার।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে বসবাস শুরু করেছেন। স্বপ্ন পূরণে নিজের ব্যর্থতা এবং হতাশা মুছে ফেলে এখন তার চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। ঘরের আঙিনায় পুষ্টি বাগান, গবাদিপশু, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করে বদলে গেছে তার ভাগ্য। ঘরের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের তরিতরকারি, শাক-সবজি ও পশুপাখি পালন করে পরিবারের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি টাকাও রোজগার করছেন।
শনিবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, হাঁস-মুরগিকে খাবার দিচ্ছেন রিনা। ঘরের খুঁটিতে বাঁধা বড় একটি ষাঁড়। গরুটিকেও তিনিই দেখাশুনা করেন। এসময় রিনা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ঘর দিয়ে যে উপকার করলেন, তা জীবনেও ভোলার নয়। তার জন্য প্রার্থনা করি, যেন সারাজীবন এভাবেই যেন মানুষের সেবা করে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
শুধু রিনাই নয়, তার মতো প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের ভূমিহীন কুলসুম (৬২)। তিনিও ঘরের পাশেই চাষ করেছেন শিম, লাউ ও পুঁইশাকসহ নানা শাকসবজি। বাড়তি আয় করেছেন হাঁস-মুরগি পালন করে। এতে একদিকে যেমন মিটেছে পুষ্টির চাহিদা অপরদিকে আর্থিকভাবেও হচ্ছেন স্বাবলম্বী। পৌর এলাকার এই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে দুস্থ ও অসহায় ২৫টি পরিবারের ঘরের স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধাপে রিনা ও কুলসুমের মতো আরও ৩৫০টি পরিবার পেয়েছে তাদের স্বপ্নের ঘর। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, আশ্রয়ণ কেন্দ্রের মানুষগুলো বসতঘর পাওয়ায় তাদের জীবনমান এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো। প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার পেয়ে তারা যেমন খুশি, তেমনি স্বাবলম্বী। আর আমরাও মহৎ এই উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পেরে অনেক গৌরব অনুভব করছি।
