আদালতের তিনতলা থেকে স্বামী-স্ত্রী নিচে, দুষছেন একে অপরকে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৭ পিএম

মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালত ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে আহত হয়েছে এক দম্পতি। তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মেহেরপুর গাংনী উপজেলার শওড়াতলা গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মামুনুর রশীদ মামুন এবং তার স্ত্রী সীমা আক্তার।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে এই দম্পতির বিয়ে হয়। মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা করেন সীমা। ওই মামলায় কাবিননামার দুই লাখ টাকা প্রদান সাপেক্ষে আপোষ হয়। সোমবার আদালতে হাজিরায় আপোষের টাকা প্রদানের দিন ছিল। তারা দুজনই আদালতের সামনে হাজিরা ডাকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এদিকে মামুন ও সীমা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। মামুনের দাবি, সীমা তাকে ফেলে দেওয়ার জন্য ধাক্কা দেন। এ সময় তিনি সীমার হাত ধরে ফেললে দুজনই পড়ে যান। অন্যদিকে সীমা বলেছেন, মামুন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মামুনের হাত ধরে ফেলায় দুজনই বারান্দা থেকে নিচে পড়েন।

মামুনুর রশীদ বলেন, আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় আমাকে টাকা গুনতে হচ্ছে। সোমবার মামলায় হাজিরা দিতে আদালতের রাবান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় সীমার সাথে আমার টাকা নিয়ে কথাকাটাকটি হলে সে আমাকে আদালতের তিনতলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমি বাঁচবার জন্য সীমার হাত ধরে ফেললে সেও আমার সাথে নিচে পড়ে যায়।

মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের পিপি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আদালত চলাকালে হঠাৎ হট্টগোল শুনি। পরে জানতে পারি আদালতের বাইরে বারান্দায় যৌতুকের একটি আপোষ মামলায় নিজেদের মধ্যে গন্ডোগোল হলে স্বামী স্ত্রীকে তৃতীয় তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ সময় স্বামীও পড়ে গিয়ে দুজনই আহত হয়ে এখন হাসপাতালে।

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, আহত দুজনের হাত পায়ের বুকের ক্ষতি হয়েছে। দুজনই গুরুত্বর আহত। মামুনকে মেহেরপুরে এবং সীমাকে কুষ্টিয়া রেফার্ড করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত