চট্টগ্রামে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে আদালতে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত সেবা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম জানান, আদালতে দীর্ঘদিনের জব্দকৃত আলামত নিষ্পত্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে শুরু হয়েছে। বিচারিক কাজের সুবিধার্থে মহানগর দায়রা জজ আদালত ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য পৃথক ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সিএমএম এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার সাফ জানান, বিচার বিভাগ ও আইনি সেবায় দুর্নীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) দেখানো হবে না। সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে ইতোমধ্যে ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে একটি ই-মেইল সেবা এবং আদালত প্রাঙ্গণে সরাসরি অভিযোগ বক্স চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয় ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সিএমএম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই কেস ডায়েরির অনুলিপি উপস্থাপন করতে হবে এবং গ্রেপ্তারের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করতে হবে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বা ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
অনুষ্ঠানে আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম। উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) তদন্তকাজের নানা সমস্যা তুলে ধরলে সিএমএম সেগুলোর আইনি সমাধান ও দিকনির্দেশনা দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রতিনিধি উপ পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের কনফারেন্স পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব খান ও হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিক, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুরসহ বিচার বিভাগ, পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, র্যাব, কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কারা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।