ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে হোমিও চিকিৎসক ও বিএনপির নেতা মো. হারুন অর রশিদকে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে নিহতের ছেলে ফেরদৌস আহাম্মদ দীপ্ত বাদী হয়ে পাগলা থানায় মামলা দায়ের করেন।
তাকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আশপাশের লোকজন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ মোবাইলে ধারণ করলেও তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্ত হত্যাকারী মো. রুবেলের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুদ্ধরা প্রকাশ্যে পুলিশের উপস্থিতিতে গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। এসময় রুবেলের মা বিউটি বেগম সন্তানকে বাঁচাতে রুবেলের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জানা যায়, নিহত হারুন অর রশিদ ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি গোয়ালবর গ্রামের মৃত খুরশেদ আলমের ছেলে। অভিযুক্ত ঘাতক রুবেল মিয়া একই ইউনিয়নের নেওকা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শাহাব উদ্দিনের ছেলে। ঘটনার দিন সোমবার দুপুরে (১৫জানুয়ারি) হারুন অর রশিদ গয়েশপুর বাজারে ছাগল হাটে বসে চা পান করছিলেন। এসময় রুবেল এসে ডা. হারুনের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে রুবেল পাশের কামারের দোকন থেকে দা নিয়ে এসে চা দোকানে ডা. হারুনকে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। এসময় হারুন দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে সখি সিনেমা হলের পাশে কাঁচাবাজারের গলিতে ছিঁটকে পড়ে যান। সেখানে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রুবেল। ঘাতকের উল্লাস করে কোপানোর দৃশ্য মোবাইলে স্থানীয়রা ধারণ করে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। পরে উত্তেজিত জনতা রুবেলের বাড়ি ঘেরাও করে জ্বালিয়ে রুবেলকে গণপিটুনি দেয়। রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা আগারগাঁও নিউরোসাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার রাতে নিহতের ছেলে ফেরদৌস আহাম্মদ দীপ্ত বাদী হয়ে পাগলা থানায় মামলা দায়ের করেন।
গয়েশপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেলিম জানান,ডা. হারুন একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। কি কারণে এ হত্যাকান্ড হয়েছে তা এখনো কেউ বুঝতে পারছে না।
মামলার বাদী নিহতের ছেলে ফেরদৌস আহম্মদ দীপ্ত জানান, ‘আমার বাবাকে সন্ত্রাসী রুবেল কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে গয়েশপুর বাজারে দা নিয়ে উল্লাস করেছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান তিনি।
পাগলা থানার ওসি (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মামলায় আসামি করা হয়েছে হত্যার ঘটনায় জড়িত রুবেল সহ আরও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। হোমিও চিকিৎসক হারুন অর রশিদের সঙ্গে ঘাতক রুবেল মিয়ার পারিবারিক কোনো ঘটনা বা অন্য কোন সমস্যা আছে কিনা তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
