পৈত্রিক সূত্রে দুই শতক জমি পেয়েছিলেন অটোরিকশা চালক মো. হোচন। তবে সেই জায়গা দখল করে নেয় প্রভাবশালী প্রতিবেশী ইব্রাহিম ও তার ছেলেরা। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন হোচন। পক্ষে রায় পেয়ে সেই জায়গায় টয়লেট করতে গেলে হামলার শিকার হন হোচনের স্ত্রী ও ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সর্বশেষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করায় উল্টো রোষের শিকার হয়েছেন অসহায় রিকশাচালক হোচন। মামলা তুলে নিতে দেওয়া হচ্ছে হুমকি ধমকি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেরিয়া ইউপির কাজি জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত. ছোয়াব মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক মো. হোচন পৈতৃক সূত্রে ২ শতক জায়গার মালিক হন। ওই জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে নেয় একই বাড়ির মৃত. নোয়াব আলীর ছেলে ইব্রাহিম ও তার ছেলেরা। যা নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠকও হয়। কিন্তু ওই প্রভাবশালীরা সালিশ অমান্য করে জোরপূর্বক জায়গা দখল রাখে। শেষে আদালতের দ্বারস্থ হন হোচন। আদালতের রায়ও হোচনের পক্ষে আসে।
এরপর ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ওই জায়গাতে একটি টয়লেট নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেয় ইব্রাহিম। এতে ইব্রাহিমের সঙ্গে হোচনের স্ত্রী নাছরিন আক্তারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিম ও তার ছেলে আবুল বশর, আবুল হোসেন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাছরিন আক্তারকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ডান পা ভেঙে দেয়। এসময় মাকে বাঁচতে গেলে চৌদ্দ বছরের ছেলে ইসরাফিলকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে নাছরিন আক্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানেও তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে নাছরিন আক্তার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২৭ ডিসেম্বর হোচন বাদী হয়ে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে হোচন বলেন, তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাড়িতে ছিলেন না তিনি। আদালতে রায় নিয়ে ওই জায়গাতে একটি টয়লেট করতে গেলে ইব্রাহিম ও তার ছেলেরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তার স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ডান পা ভেঙে দেয় অভিযুক্তরা। সেইসঙ্গে ছেলেকেও পিছিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তার স্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা করায় ইব্রাহিম ও তার ছেলেরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। তবে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান। হুমকির বিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
