‘কী খামু, এক লাউ ৮০ টাকা’

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৮ পিএম

শীতের মৌসুম পিঠা-পুলির ঋতু হিসেবে পরিচিত হলেও এটি নতুন নতুন সবজির জন্যও অনেকের প্রিয়। এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সবজি পাওয়া যায় বাজারে। তবে এবার বাজারে উল্টো চিত্র। বাজারে শীতকালীন সবজির দেখা মিলছে কম। আর এই অজুহাতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে দাম। কোনো কোনো সবজি পর্যাপ্ত থাকলেও দাম ঊর্ধ্বমুখী।

আজ বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে গত মৌসুমের চেয়ে দ্বিগুন। শীতের শেষে যে মুলা গ্রামে অপ্রিয় হয়ে পড়ে তা এখনো ঢাকার বাজারে ৫০ টাকা কেজি। লাউয়ের পিস ৮০ টাকার নিচে নেই। আকারে একটু বড় হলেই দাম হাকাচ্ছে ১০০ টাকারও বেশি। এই লাউ গত মৌসুমে ছিল ৪০-৫০ টাকা পিস।

রাজধানীতে সবজির সবচেয়ে বড় বাজার কারওয়ান বাজার। এই বাজারে আজ দুপুরে দীর্ঘক্ষণ ঘুরে দেখা গেছে, শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শসা, পেঁয়াজ ও আলু। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে গতকাল রবিবারের চেয়ে আজ সবকিছুর দামই বাড়তি। ব্যতিক্রম শুধু আলু ও শিমে। এই দুই সবজিতে গতদিনের চেয়ে ১০ টাকা দাম কম ছিল আজ। এ ছাড়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা পিস। মটরশুটির কেজি ১২০ টাকা।

বাজারের ক্রেতাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দিকে নজর নেই কর্তপক্ষের। নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযানের অভাবে সুযোগ পেয়ে ব্যাবসায়ী ও বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন।

সবজি কিনতে পকেট ফাঁকা হচ্ছে দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের। আজ দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সবজি নিতে আসেন রাজমিস্ত্রী জাহিদ ইসলাম। তিনি কয়েকটি সবজির দোকান ঘুরে বাজার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় পছন্দের সবজি কিনতে পারেননি। শেষে ৪০ টাকা কেজিতে মুলা এবং ৫০ টাকায় এক কেজি আলু কিনেছেন।

রাজমিস্ত্রী জাহিদ ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কী খামু, এক লাউয়ের দাম এখন ৮০ টাকা। আগে যা ছিলো ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মুলার কেজি ৪০ টাকা। যে মুলা এক সময় বিক্রি হতো ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমরা কীভাবে সংসার চালাবো। সরকারের কাছে আমার দাবি, এসবের দাম যেন কমানো হয়। নয়তো আমরা চলতে পারবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজমিস্ত্রীর কাজ করে দিনে ৫০০ টাকার মতো ইনকাম করি। ঘরে স্ত্রীসহ দুই ছেলে এক মেয়ে আছে আমার। সবজির বাজার চড়া হওয়ায় পাঁচ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তো কিনতে হয়।’

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া একটা বিষয় হতে পারে। তীব্র শীতের কারণে সবজি সাপ্লাই কম হচ্ছে। এজন্য গত বছরের থেকে এ বছর অনেক সবজির দাম বেড়েছে। গত বছর যে লাউ বিক্রি করেছি ৩০ টাকা পিস, এবার সেই লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০ টাকায়।’ 

ঢাকায় সবজি আনতে পথে পথে চাঁদা দিতে হয় দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘জেলা পর্যায় থেকে মালামাল আনতে অনেক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। সেই প্রভাব পড়ে সবজির দামে। সব মিলিয়ে সবজির দাম একটু বেশি।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত