ইমরুল কায়েসের অর্ধশতকেই মনে হয়েছিল উদ্বোধনী ম্যাচের সূচনার আকর্ষণীয় পর্ব। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না পেসার শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের শেষ ওভারে তিনি হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে ফোকাস কেড়ে নিলেন নিজের দিকে। খুশদিল শাহ, রস্টন চেজ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ফিরিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন এই পেসার।
বিপিএলের সপ্তম বোলার ও চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এই আসরে যা হলো উদ্বোধনী ম্যাচেই। ২ বছর পর আবারও টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকের দেখা। সবশেষটি হয়েছিল ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বোলার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। আজ মিরপুরে করলেন শরিফুল।
শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন খুশদিল। চতুর্থ বলে পুল করতে গিয়ে শর্ট হার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ দেন তিনি। পরের বলে শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন নাঈম শেখের হাতে। আর শেষ বলে অঙ্কন অফ স্টাম্প লাইনের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ইরফান শুক্কুরকে ক্যাচ দেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তুলেছে কুমিল্লা।
এ দিন টসে বোলিং নিয়ে ঢাকার অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন শুরুর দুই ওভারে বল তুলে নেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে। দুই পেসার উইকেট থেকে বাউন্স কাজে লাগিয়ে শুরুর ২ ওভারে দেন ৬ রান। তৃতীয় ওভারে অবশ্য আরাফাত সানিকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন ঢাকা দলপতি।
সেই ওভারে ৩ রান দেন এই স্পিনার। পরের ওভার শ্রীলঙ্কান চতুরাঙ্গা ডি সিলভাকে বল তুলে দেন মোসাদ্দেক। ওভারের প্রথম বলেই লঙ্কান এই অলরাউন্ডারকে ছক্কা হাঁকান কুমিল্লার ওপেনার লিটন দাস। এর দুই বল পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তুলে নিচ্ছিলেন তিনি।
যদিও ওভারের শেষ বলে এই লঙ্কানকে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে নাঈম শেখের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ১৬ বলে ১৩ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর কুমিল্লার ইনিংস টেনেছেন ইমরুল ও হৃদয়। ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া ইমরুল আউট হয়েছেন ৬৬ রান করে।
ফুলার লেংথের ডেলিভারিতে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে খেলতে গিয়ে সীমানার কাছে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ইমরুল। এর আগেই অবশ্য তাসকিন আহমেদ ফিরিয়েছেন হৃদয়কে। তিনি কুমিল্লার এই ব্যাটারকে হাফ সেঞ্চুরি পেতে দেননি। ৪৭ রান করা হৃদয় আউট হয়েছেন লাসিথ ক্রুসপুল্লের হাতে ক্যাচ দিয়ে। শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করে কুমিল্লার ইনিংস ১৪৩ রানে থামিয়েছেন শরিফুল।
বিপিএলে যত হ্যাটট্রিক
১/ মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) - প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) - প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)
৫/ আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিং (২০১৯)
৬/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) - প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৭/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
