শেষ ওভারের প্রথম বলটা ডট দেন শরিফুল ইসলাম। তার পরের দুই বলে খেলেন ছক্কা। প্রথম ছক্কাটা কাভারের ওপর দিয়ে। আর দ্বিতীয়টা খুশদিল শাহ মারলেন মিড উইকেট দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে শরিফুলের কাছে ছুটে এলেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ। বুদ্ধি দিলেন- ইয়র্কার নয়, এই উইকেটে করো গতির পরিবর্তন! শরিফুল সেটাই করলেন, শেষ ৩ বলে ৩ উইকেট। এবারের বিপিএলের প্রথম ম্যাচেই পেলেন হ্যাটট্রিক।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিনের সঙ্গে সেই কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন এই পেসার। তিনি বলেছেন, ‘দুটি ছক্কা খাওয়ার পর তাসকিন ভাই আর সৈকত ভাই (মোসাদ্দেক) বলেছিল এই উইকেটে চেঞ্জ অব পেসটা করলে হয়তো ভালো হবে। কারণ, উইকেটে একটু আলাদা বাউন্স আছে।’
গত বছরটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ কেটেছে শরিফুলের। ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণেই খেলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩২ ইনিংসে উইকেট নিয়েছেন ৫২টি, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। চলতি বছরে প্রথমবার মাঠে নেমেছেন বিপিএল দিয়ে। এই বছরটাও গত বছরের মতো দুর্দান্ত কাটাতে চান শরিফুল।
একে তো যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক, সঙ্গে আজ প্রথমবার খেলা দেখতে এসেছিল পরিবারও। শরীফুলের জন্য এই হ্যাটট্রিকটা তাই বিশেষ, ‘আমার পরিবার আজ প্রথম খেলা দেখতে মাঠে এসেছে এবং সেদিনই আমার হ্যাটট্রিক হয়েছে, এটা খুব ভালো লাগছে। হ্যাটট্রিকের চিন্তাভাবনা ছিল না, দুই ছক্কা খাওয়ার পর চিন্তা করেছি আমার হাতে তখনো বল আছে আরও তিনটা। আমি ভালোভাবে ফিরে আসতে পারব। হয়তো এখান থেকে একটা উইকেট নিতে পারব। দুটি ছক্কা খাওয়ার পর মনে করছিলাম, কীভাবে রান আটকে দেওয়া যায়। কারণ, হয়তো আরেকটা যদি ছয় খেতাম স্কোরটা বড় হয়ে যেত। আমার লক্ষ্যটা ছিল যেন আমি ডট বল করতে পারি।’