এবার শরীফাকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাহবুব কবীর মিলন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৩ পিএম

সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ছিঁড়ে চাকরি হারিয়েছেন শিক্ষক আসিফ মাহতাব। এই নিয়ে যখন সামাজিক মাধ্যম কিংবা বাস্তবেও চলছে তোলপাড় তখনই মাহবুব কবীর মিলন নতুন করে পাঠ্যপুস্তকের শরীফাকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

 রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব বলছেন, ক্লাস সেভেনের পাঠ্য পুস্তকে লিখা শরীফা গল্পের লেখকের কাছে আমার প্রশ্ন: শরীফা কি ট্রান্সজেন্ডার, নাকি থার্ড জেন্ডার, নাকি হিজড়া? ২০২২ সালে প্রকাশিত গত বছর ক্লাস সেভেনে পাঠ্য পুস্তকে আপনি লিখেছেন বা পরিচয় দিয়েছেন, শরীফা একজন ট্রান্সজেন্ডার। এই বছর লিখেছেন শরীফা একজন থার্ড জেন্ডার। তাহলে গত বছর ট্রান্সজেন্ডার লেখা কি ভুল ছিল?

এরপর তিনি বলেন, যদি ভুল হয়ে থাকে তবে, গত বছর শরীফার পরিচয় ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে যে বাচ্চারা সিলেবাস শেষ করে এই বছর ক্লাস এইটে উঠেছে, তাদের ভুল ভেঙ্গে দেবেন কিভাবে!

আর প্রশ্ন যুক্ত করে বলেন, তারমানে ট্রান্সজেন্ডার আর থার্ড জেন্ডার আলাদা? আসেন এই বছরের গল্পে। আপনি শরীফার পরিচয় দিয়েছেন থার্ড জেন্ডার হিসেবে। আমরা জানি থার্ড জেন্ডার আর হিজড়া একই। একটা ইংরেজিতে অন্যটা বাংলায়।  তাহলে শরীফাকে হিজড়া বলেননি কেন? বা পরের লাইনে "হিজড়া সম্প্রদায়"-কে থার্ড জেন্ডার বলেননি কেন? আপনি পরপর দুই বছরের পাঠ্য পুস্তকে শরীফাকে "হিজড়া" শব্দের বাইরে রেখে অন্য দুই শব্দ প্রয়োগ করেছেন কেন? নাকি আপনার শ্রেফ ক্লারিক্যাল মিস্টেক তা?

উত্তর আশা করে এই অধ্যায়ের লেখকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বলেন, আশা করি ইনবক্সে উত্তর দেবেন, যদি এই লিখা আপনার কাছে পৌঁছায়।  অন্যদের উত্তর দেবার প্রয়োজন নেই। দুই বছরের পাঠ্য পুস্তকের স্ক্রিনশট কমেন্টে পাবেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাবকে নিয়ে চলছে তোলপাড়। সামাজিক মাধ্যম কিংবা বাস্তব মাধ্যম-দুই মাধ্যমেই এখন আলোচিত টপিক এই শিক্ষক। সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে হিজড়া সম্প্রদায়কে নিয়ে করা একটি অধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন এই শিক্ষক। 

গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেন শিক্ষক আসিফ মাহতাব।

শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে এই সম্মেলন হলেও এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। 

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ট্রান্সজেন্ডারের গল্প ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করা হচ্ছে। এসময় তিনি এই পাঠ্যবই থেকে ‘শরীফ’ থেকে ‘শরীফা’ হওয়ার গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। এ দৃশ্যের একটি ভিডিও মাহতাব তার নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত