একটি হত্যা গোপন করতে গিয়ে ভবনে আগুন লাগিয়ে ৭৬ খুন!

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় গতবছর একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। জবানবন্দিতে ওই ব্যক্তি দিয়েছেন রোমহর্ষক তথ্য, স্বীকার করেছেন গলা টিপে একজনকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ভবনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই আগুনে পুড়ে মরেছিলেন ৭৬ জন।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরে একটি ভবনে আগুন লেগে কমপক্ষে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।

ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা জানতে পারলেন এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। এক ব্যক্তি ইচ্ছে করেই নিজের অপরাধ ঢাকতে সেই ভবনটিতে আগুন দিয়েছিলেন। তার হাতে খুন হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ ভস্ম করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সেই ভবনে আগুন দিয়েছিলেন।  

মঙ্গলবার আগুনের ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার তদন্ত কর্মকর্তারা এসব কথা জানান। তারা আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৬টি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির নির্দেশ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে শ্বাসরোধ করে একজনকে হত্যার পর দেহ পুড়িয়ে দিতে গ্যাসোলিন ঢেলে আগুন দেন। যা পরে পুরো ভবনকে গ্রাস করে।   

গেলো আগস্টে জোহানেসবার্গে রাতের আগুনের কারণ নিয়ে গণতদন্তে তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তি এমন রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দেন। আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে বয়স ২৯ বলে জানিয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজ থেকেই ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটানোর সময় তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবনটি বসবাস করা তানজানিয়ার এক মাদক ব্যবসায়ী তাকে এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে বলেছিলেন। এই স্বীকারোক্তি তিনি নিজ থেকেই দিয়েছেন।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টা এবং আগুন দেওয়ার অভিযোগসহ শতাধিক মামলা করা হতে পারে। তাকে শিগগিরই জোহানেসবার্গে আদালতে হাজির করা হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত করার পরেই আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ২০২৩ সালের সেই আগুনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়। পাঁচতলা ওই ভবনটি শহরের একটি বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। তবে, সেখানে অবৈধ ব্যবস্থাপনায় লোকজন বসবাস করতো। অর্থাৎ বসবাসের জন্য ভবনটি উপযোগী না থাকলেও অপরাধী চক্র ভবনটি দখলে নিয়ে সেখানে দুস্থদের কক্ষ ভাড়া দিত।   

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ভবনটিতে যারা বসবাস করতো তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলো অভিবাসী লোকজন। ভবনটি শহরের যে এলাকায় সে জায়গাটি ‘হাইজ্যাকড’ বিল্ডিং এর এলাকা হিসেবে পরিচিত। যেসব ভবনে অবৈধ অভিবাসীরা বসবাস করে সেসব ভবনকে বোঝানোর জন্য স্থানীয়ভাবে 'হাইজ্যাকড বিল্ডিং' কথা ব্যবহার করা হয়। এসব ভবনকে নিরাপদ মনে করে মাদক কারবারি ও অপরাধীরাও।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত