ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল খনি

ব্যাপকভাবে বন উজাড় করছে বিদেশী কোম্পানিগুলো

  • সিআরআই বলছে, ২০১৮ সাল থেকে ওয়েডা বে পার্কটিতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো ৫ হাজার ৩০০ হেক্টরের ও বেশি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বন উজাড় করেছে
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম

খনিজ সমৃদ্ধ দেশ ইন্দোনেশিয়া নিকেল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ও শীর্ষ দেশ। গত এক দশকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি শিল্পের চাহিদা মেটাতে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিকেলের রিফাইনার এবং খনিতে পরিণত হয়েছে।

তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো নিকেল উত্তোলন করতে গিয়ে ব্যাপকভাবে বন ও গাছপালা ধ্বংস করছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।  

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লাইমেট রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (সিআরআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে । শনিবার এই প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স জানায় ২০৩০ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৬ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যাটারি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে। যার ফলে বেড়েছে নিকেল উত্তোলন ও উৎপাদন। কারণ বৈদ্যুতিক যানে ব্যবহৃত ব্যাটারি তৈরির মূল উপাদানগুলোর একটি নিকেল। স্টেইলেস স্টিল তৈরিতেও নিকেল গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিআরআই জানায়, ইন্দোনেশিয়ার মালুকু অঞ্চলের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত অন্যতম বৃহত্তম নিকেল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ওয়েডা বে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বন উজার ও গাছ ধ্বংসের কার্যকলাপ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই পার্কে নিকেল উত্তোলনে চীন ও ফ্রান্সের বিনিয়োগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত স্যাটেলাইট চিত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় যে ২০১৮ সাল থেকে পার্কটিতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো ৫ হাজার ৩০০ হেক্টরের ও বেশি গ্রীষ্মমন্ডলীয় বন উজাড় করেছে।

উজার করা বনের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি ফুটবল মাঠের আকার।

এতে করে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়েছে যে বিশাল রেইনফরেস্টের দেশটিতে নিকেল শিল্প বন উজাড়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে যা পরিবেশ আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

তবে বন উজাড় বন্ধে গত বছর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। এর ফলে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত, ইন্দোনেশিয়া ২০১৫-২০১৭ সালের তুলনায় বন উজাড় ৬৪ ভাগ কমিয়ে এনেছে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত