বিশেষ তিনটি সুন্নত রয়েছে, যেগুলো সব সুন্নতের চাবিকাঠি। মুমিনের জীবনে সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর হুকুম পালনে নবী কারিম (সা.)-এর তরিকা অবলম্বনই হচ্ছে সুন্নতের অনুসরণ। আর জীবনের প্রতিটি ক্ষণে ও পদে পদে নবীজির (সা.) পদাঙ্ক অনুসরণই হচ্ছে আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা লাভের একমাত্র মাধ্যম। কোরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তাহলে আমার অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা আলে ইমরান : ৩১)
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। সবাই জাহান্নামে যাবে, শুধু একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বহু দলের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত ওই একটি দলের পরিচয় কী? হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারা হলো ওইসব লোক, যারা আমার সুন্নত ও আমার সাহাবিদের আদর্শের অনুসরণ করবে। (জামে তিরমিজি : ২৬৪১)
তাহলে আমরা কীভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজির (সা.) সুন্নত পরিপালন করতে পারি, সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। অগণিত সুন্নতের ওপর আমল করা আমাদের মতো দুর্বল ইমানদারদের জন্য সহজ হওয়ার কোনো টিপস আছে কি? হ্যাঁ! আছে, অবশ্যই আছে। অভিজ্ঞ আলেমরা স্বীয় অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা বলেন যে, বিশেষ তিনটি সুন্নত এমন আছে যার ওপর আমল করলে বাকিসব সুন্নতের ওপর আমল করা অতি সহজ হয়ে যায়। সুন্নতগুলো হলোশ্বি
এক. বেশি পরিমাণে শুদ্ধরূপে সালামের প্রচার-প্রসার করা। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা প্রকৃত ইমানদার না হলে জান্নাতে যেতে পারবে না। আর পরস্পরে ভালোবাসা না রাখলে প্রকৃত ইমানদারও হতে পারবে না।
সুতরাং আমি কি তোমাদের এমন কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা পরস্পরে খুব ভালোবাসবে? শুনো, তোমরা পরস্পরে সালামের প্রচার-প্রসার করো। (সহিহ মুসলিম : ৯৩)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার করো, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করো, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা নামাজ পড়ো। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (জামে তিরমিজি : ২৪৮৫)
দুই. প্রত্যেক ভালো কাজে ও ভালো স্থানে ডানকে প্রাধান্য দেওয়া এবং নিম্ন কাজে ও নিম্ন স্থানে বামকে প্রাধান্য দেওয়া। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তার প্রত্যেক কাজে যথাসম্ভব ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া পছন্দ করতেন। এমনকি অজু করা, মাথা আঁচড়ানো ও জুতা পরার মধ্যেও। (সহিহ বোখারি : ৪২২)
তিন. সর্বাবস্থায় জিকিরের অভ্যাস করা। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতেন। (সহিহ মুসলিম : ৩৭৩)
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানী লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১)
‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারীশ্বি তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব : ৩৫)
অতএব সর্বাবস্থায় তথা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, অজুসহ বা অজু ছাড়া, পবিত্র অবস্থায় বা অপবিত্র অবস্থায় এবং নারীদের বিশেষ দিনগুলোতেও আল্লাহর জিকির করা যায়। অবশ্য গোসল ফরজ হলে এবং নারীদের বিশেষ দিনগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত বৈধ নয়।
সর্বদা জিকিরে অভ্যস্ত হওয়ার সহজ একটি পদ্ধতি হলো, ওপরে ওঠার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলা, নিচে অবতরণের সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা এবং সমতল ভূমিতে চলার সময় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অথবা অন্য কোনো জিকির করা। হজরত জাবির (রা.) বলেন, আমরা যখন ওপরের দিকে উঠতাম তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলতাম এবং যখন নিচের দিকে অবতরণ করতাম তখন ‘সুবহানাল্লাহ’ পড়তাম। (সহিহ বোখারি : ২৯০২)
