কুমিল্লায় টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:১৭ পিএম

কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে টেন্ডার ছাড়াই একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০টি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে ছয়টি গাছ ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। উপজেলার দৌলখাঁড় ইউপির সোন্দাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের গাছ কাটা শুরু করেন আব্দুর রফ। পরে উপজেলা প্রশাসন খবর পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকায় বিদ্যালয়টিতে মনোরম পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু গাছ কাটা হলে সেই পরিবেশ নষ্ট হবে। তা জেনেও উন্নয়নের কথা বলে বিদ্যালয়ের বড় আকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির ৯০টি গাছ ২ লাখ ৭৫ হাকার টাকায় স্কুলের অভিভাবক সদস্য আব্দুর রফের কাছে বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। যার বর্তমান বাজার মূল সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা হবে বলে দাবি স্থানীয়দের। 

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উন্নয়নের কথা বলে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি বাবদ ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই টাকা প্রধান শিক্ষক স্কুল কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 

এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় হামিদুল হক চৌধুরী নামের এক ব্যাক্তি গত ১৭ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। যার অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
 
এ বিষয়ে হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের হাত করে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে। তা বন্ধ করার জন্য আমি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল হোসেন বলেন, ভর্তি ফি আর এসএসসি ফরম পূরণে যে টাকা আসে তা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। চার থেকে পাঁচটি গাছ কাটা হয়েছে। তবে এখন গাছ কাটা বন্ধে আছে। গাছ কাটার আইন আছে তা আমার জানা ছিল না। এখন টাকা ফেরত দিব।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরি করে দ্রুত নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগের আলোকে বন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত