ঢাকায় থেকে আন্তর্জাতিক মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ করতেন নাইজেরীয়

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৯ পিএম

হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলে পৃথক অভিযানে সাড়ে ৮ কেজি কোকেন উদ্ধার ও দুজন গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, নাইজেরিয়ান নাগরিক ডন ফ্রাঙ্কি ওরফে জ্যাকব ফ্রাঙ্কি হচ্ছে বাংলাদেশে কোকেন সিন্ডিকেটের মূল হোতা। সে ’বিগ বস’ নামে তাদের কমিউনিটিতে পরিচিত এবং বাংলাদেশ নাইজেরিয়ান কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় ডন ফ্রাঙ্কিকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও এ চক্রের আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী এমন তথ্য জানান। 

তিনি রবিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি তারা সাড়ে ৮ কেজি কোকেনসহ মালাউয়ের নাগরিক নোমথানডাজো তোয়েরা সোকো (৩৫) নামে একজনকে বিমানবন্দর এবং উত্তরায় একটি হোটেল থেকে তানজানিয়ার নাগরিক মোহাম্মেদি আলি মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তারা তদন্ত শুরু করেন। এরপর ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম রনি (৩৪), আসাদুজ্জামান আপেল (২৭), ক্যামেরুনের নাগরিক কেলভিন ইয়েঙ্গে (৪২), নাইজেরিয়ান নাগরিক ননসো ইজিমা পেটার ওরফে অস্কার (৩০) ও এনডুলয়ে ইবুকা স্টানলি ওরফে পডস্কি (৩১)। 

তিনি বলেন,  মালাউয়ের নাগরিক ও তানজেনিয়ার নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাদ, ডিজিটাল ডিভাইস ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কোকেন চোরাচালান চক্রের অন্যান্য সদস্যসহ মূল হোতা ডন ফ্রাঙ্কি নামের এক নাইজেরিয়ান নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায়। গত ৯ বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা ফ্রাঙ্কি ৯ মাস আগে বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

চক্রটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে ডিএনসি’র মহাপরিচালক বলেন, গ্রেপ্তার কেলভিন চলতি মাসের ২০ তারিখ মোহাম্মদি আলির সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। কেলভিন এই মাদক চক্রের অন্যতম সদস্য। তিনি বাংলাদেশে বসে মাদকের দেশি বিদেশি সদস্যদের সমন্বয়ের কাজ করে থাকেন। সে কোকেনসহ গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এদিকে চক্রের মূলহোতা ডন ফ্রাঙ্কির বাংলাদেশী সহযোগী হচ্ছে রনি। সে এই সিন্ডিকেটের বাংলাদেশী সমন্বয়কারী। সেও গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল মাদক বহনকারীদের দেশে প্রবেশের প্রয়োজনীয় ইনভাইটেশন, হোটেল বুকিং ও ভিসা পাওয়ার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। ম্যাসপেক্স লিমিটেড নামের কথিত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই আমন্ত্রণ পত্র ইস্যু করা হত। রনির মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রযুক্তির ডিভাইস বিশ্লেষণ করে একাধিক ভূয়া ইনভাইটেশন লেটার পাঠানো ও চক্রের মূলহোতা ফ্রাঙ্কির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ফ্রাঙ্কির অবর্তমানে তার ভাই উইসলি ও তাদের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আপেল বারিধারার একটি বাসা থেকে ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। কোকেন চালান আটকের সংবাদ পেয়ে তারা আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে আপেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে আপেল ডিএনসিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশে কোকেনের চালান প্রবেশের পরে পুনঃপ্যাকেজিং, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা দায়িত্ব ছিল তার। তার ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ডন ফ্রাঙ্কির ভাই উইসলি কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ত্যাগ করে চলে গেছে। পরবর্তীতে আপেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্কার ও পডস্কিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কাজের মাধ্যমে তারা জেনেছেন যে কোকেন ব্যবহার বাংলাদেশে সেভাবে নেই। তাই তাদের ধারণা কোকেন পাচারে বাংলাদেশ রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। আর এই কোকেন পার্শ্ববর্তী দেশে বা অন্য জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।  

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত