ঢাকায় থেকে আন্তর্জাতিক মাদক রুট নিয়ন্ত্রণে নাইজেরীয়

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:২২ এএম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলে কয়েক দিন আগে চালানো অভিযানে উদ্ধার করা হয় সাড়ে আট কেজি কোকেন। গ্রেপ্তার করা হয় দুই বিদেশিকে। মাদকের এ বড় চালান জব্দের ঘটনায় তদন্তে নেমে জানা যায়, নাইজেরিয়ার নাগরিক ডন ফ্রাঙ্কি ওরফে জ্যাকব ফ্রাঙ্কি হচ্ছেন বাংলাদেশে কোকেন সিন্ডিকেটের হোতা। তিনি ‘বিগ বস’ নামে তাদের কমিউনিটিতে পরিচিত এবং ‘বাংলাদেশ নাইজেরিয়ান কমিউনিটির’ প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন এই ডন ফ্রাঙ্কি। তাকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তার চক্রের আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল রবিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী। সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি তারা সাড়ে আট কেজি কোকেনসহ মালাউইর নাগরিক নোমথানডাজো তোয়েরা সোকোকে (৩৫) বিমানবন্দর এবং উত্তরায় একটি হোটেল থেকে তানজানিয়ার নাগরিক মোহাম্মদি আলি মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেন। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তদন্ত শুরু করেন। এরপর ২৫ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম রনি (৩৪), আসাদুজ্জামান আপেল (২৭), ক্যামেরুনের নাগরিক কেলভিন ইয়েঙ্গে (৪২), নাইজেরিয়ান নাগরিক ননসো ইজিমা পেটার ওরফে অস্কার (৩০) ও এনডুলয়ে ইবুকা স্টানলি ওরফে পডস্কি (৩১)।

মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, মালাউইর নাগরিক ও তানজানিয়ার নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ, ডিজিটাল ডিভাইস ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কোকেন চোরাচালান চক্রের অন্যান্য সদস্যসহ হোতা ডন ফ্রাঙ্কির সন্ধান পাওয়া যায়। গত ৯ বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা ফ্রাঙ্কি ৯ মাস আগে বাংলাদেশ ছেড়ে নিজ দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

চক্রটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে ডিএনসির মহাপরিচালক বলেন, গ্রেপ্তার কেলভিন চলতি মাসের ২০ তারিখ মোহাম্মদি আলির সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। কেলভিন এই মাদক চক্রের অন্যতম সদস্য। তিনি বাংলাদেশে বসে মাদক চক্রের দেশি-বিদেশি সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করতেন। কোকেনসহ গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেলভিন। চক্রের হোতা ফ্রাঙ্কির বাংলাদেশি সহযোগী হচ্ছেন রনি। তিনি এ সিন্ডিকেটের বাংলাদেশি সমন্বয়কারী। তিনিও গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। তার কাজ ছিল মাদক বহনকারীদের দেশে প্রবেশের প্রয়োজনীয় ইনভাইটেশন, হোটেল বুকিং ও ভিসা পাওয়ার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। ম্যাসপেক্স লিমিটেড নামে কথিত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হতো। ফ্রাঙ্কির অবর্তমানে তার ভাই উইসলি ও তাদের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান আপেল বারিধারার একটি বাসা থেকে সব কারবার দেখাশোনা করতেন। ফ্রাঙ্কির ভাই উইসলিও কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসির মহাপরিচালক জানান, তারা জেনেছেন যে কোকেন ব্যবহার বাংলাদেশে সেভাবে নেই। তাই তাদের ধারণা কোকেন পাচারে বাংলাদেশ রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। আর এই কোকেন পার্শ্ববর্তী দেশে বা অন্য জায়গায় যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত