অ্যাগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল

মালামাল সরানোর ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৪১ পিএম

বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট লিমিটেডের মালামাল ও যন্ত্রাংশ (ইকুইপমেন্ট) বাংলাদেশ থেকে সরানোর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ আপাতত বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে অ্যাগ্রিকোর করা আবেদনের ওপর গতকাল রবিবার কোনো আদেশ না দিয়ে (নো অর্ডার) বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হবে। গতকাল চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম গতকাল এ আদেশ দেন।

আদালতে অ্যাগ্রিকোর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন। কোম্পানির শ্রমিকদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার হেলাল উদ্দিন।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের অ্যাগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল ২০১০ ও ’১১ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি করে। ওই সময় অ্যাগ্রিকোতে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন বিজন বিহারী সিনহা, সৈয়দ আবদুল্লাহ আল আমিন, আবু নাছেরসহ সাত বাংলাদেশি নাগরিক। পরবর্তীকালে ২০১৯, ’২০ ও ’২১ সালের বিভিন্ন সময়ে তারা চাকরি ছাড়েন। তাদের আইনজীবীরা জানান, একেকজনের ১০ থেকে ১২ বছর চাকরি শেষ হলেও শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৫ শতাংশ পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি অ্যাগ্রিকো। গত বছর ২১ আগস্ট অ্যাগ্রিকো তাদের জানিয়ে দেয়, শ্রমিকরা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশনা চেয়ে গত বছর ১১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তারা। ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রুলে শ্রম আইনের ২৩৪, ২৩৫ ও ২৩৬ ধারা অনুযায়ী অ্যাগ্রিকোতে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড ও শ্রমিকদের লভ্যাংশের ফান্ড গঠনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে যাতে ওই কোম্পানি বিদেশে কোনোরকম লেনদেন বা অর্থ পাঠাতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় আদালত। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে অ্যাগ্রিকো সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশ আংশিক সংশোধনী করে শুধু কোম্পানির নিজস্ব খরচ যেমন ভ্যাট, ট্যাক্স এসবের জন্য অ্যাগ্রিকো তাদের হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারবে বলে আদেশ দেয়।

রিটকারীপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তর বলেন, ২০১৯ সালে সরকারের সঙ্গে অ্যাগ্রিকোর চুক্তি শেষ হলেও ২০২০-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেটি বর্ধিত করা হয়। ইতিমধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে ইকুইপমেন্ট (মালামাল) সরিয়ে দুবাই নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এর মধ্যে কোম্পানিটি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। কেরানীগঞ্জসহ তিনটি এরিয়াতে ইকুইপমেন্ট যাতে সরিয়ে নিতে না পারে সে বিষয়ে বাদীপক্ষ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত বছর ২২ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করে। ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে অ্যাগ্রিকো যাতে তাদের মালামাল সরাতে না পারে সে বিষয়ে ছয় মাসের নিষেধজ্ঞাসহ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে রুল দেয়। ব্যারিস্টার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরেও গত কয়েক দিন ধরে ওই কোম্পানি তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শুনানিতে চেম্বার আদালতে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত