বিনা নোটিশে দিনভর দলিল নিবন্ধনসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছেন চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার জন্য দিনভর দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েন সেবাগ্রহীতারা। অনেকেই দলিল নিবন্ধন, নকল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজন অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের একজন মো. আলী পাশা।
তিনি (মো. আলী পাশা) বলেন, একটি দলিলের নকল পেতে দরখাস্ত করেছি দুই সপ্তাহ আগে। আজ (৩০ জানুয়ারি) সেটি সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১১টায় এসে দেখি সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মূল ফটকের গেইট বন্ধ। সেটিতে হাতে লেখা একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ অফিস বন্ধের কারণ জানতে চাইলে ভেতর থেকে গেইটে লাগানো নোটিশ দেখিয়ে দেন এক কর্মচারী। ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মশালার জন্য পুরো একটা দিন সেবা বন্ধ রাখার বিষয়টি এক/দুইদিন আগে নোটিশ করা দরকার ছিল। অথচ যেদিন কর্মশালা সেদিনই হুটহাট করে সেদিন কেন নোটিশ ঝুলিয়ে দিল কতৃর্পক্ষ, প্রশ্ন মো. আলী পাশার।
সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, প্রতিদিন অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি বিভিন্ন প্রকার দলিল রেজিস্ট্রি হয় সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। এসব দলিল নিবন্ধনে একদিনে বিপুল অংকের টাকা রাজস্ব হিসেবে পায় সরকার। দিনভর অফিস বন্ধ রাখায় একদিকে ভোগান্তিতে পড়েন দলিল দাতা ও গ্রহীতারা। অপরদিকে রাজস্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আগে থেকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই কর্মশালার জন্য দিনভর অফিস বন্ধ রাখে কতৃর্পক্ষ।
নগরের ডবলমুরিং মৌজায় ৪ শতাংশ জমি কিনেছেন আহমদ হোসেন। তার বাড়ি নগরের আগ্রাবাদ এলাকায়। তিনি জানান, দলিল দাতা থাকেন ঢাকার রামপুরায়। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাকে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ (৩০ জানুয়ারি) তাকে ঢাকায় ফিরে যেতে হবে। জমিটি রেজিস্ট্রি প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুপুর ১২টায় সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসে এলে কলাপসিবল গেইটের ভেতর থেকে এক কর্মচারী জানান-আজ নাকি রেজিস্ট্রি হবে না। ‘এটা কি মগের মুল্লুক’। কর্মশালার আয়োজন কি সরকারি ছুটির দিনে করা যেত না, বলেন আহমদ হোসেন।
মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ওই কার্যালয়ের মুল ফটকে তালা। ঝুলছে একটা নোটিশ। ‘এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অত্র কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অদ্য রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকিবে। আদেশক্রমে কতৃর্পক্ষ।
কর্মশালা আয়োজনের দিন কেন নোটিশ ঝুলানো হলো, এমন প্রশ্ন করলে জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা বলেন, ‘আগে থেকে সবাইকে বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুয়ায়ী রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এ ধরণের কর্মশালা প্রতিবছর একবার আয়োজন করা হয়।’
