হজযাত্রী কমে অর্ধেক, ফেরত যাচ্ছে বাকি কোটা

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম

কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও শতভাগ পূরণ হয়নি হজযাত্রী নিবন্ধন। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। পরে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি সরকারকে জানিয়ে বাকি কোটা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার বিপরীতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৬৩ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৯৭৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৯ হাজার ৬১৩ জন নিবন্ধন করেছেন। সে হিসেবে সরকারি কিংবা বেসরকারি, কোনো কোটাই পূরণ হয়নি।

ফলে কোটা খালি রয়েছে ৬৩ হাজার ৬০৯ জনের। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হয়তো আরও কিছু বাড়বে। যারা প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন তাদের আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাংকে বাকি টাকা জমা দিয়ে পুরো নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। শেষ পর্যন্ত নিবন্ধনকারীর সংখ্যা কিছু কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, মূলত হজের ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিবন্ধনে এবার হজযাত্রীদের আগ্রহী কম। একদিকে ডলারের বাড়তি দাম, অন্যদিকে ওমরা পালনে আগ্রহ বাড়ায় হজে নিবন্ধন কমেছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে হজ নিবন্ধনের কার্যক্রম চলাও এতে প্রভাব পড়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আব্দুল হামিদ জমাদ্দার জানিয়েছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তাই বারবার সময় বাড়িয়ে এবং প্রচার করেও নিবন্ধনের কোটা পূরণ হয়নি। গতবারের হিসেবে আমরা ভেবেছিলাম- এবারও এক লাখের বেশি হবে হাজীর সংখ্যা। কিন্তু এবার তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সৌদি সরকারকে হাজীর সংখ্যা জানাতে না পারলে থাকা, খাওয়াসহ নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়। তাই নতুন করে আর সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই।

হজের নিবন্ধন শুরু হয় গত ১৫ নভেম্বর, যা ১০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় প্রথম সময় বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে সময় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং তৃতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ মাসের শুরুতে পবিত্র হজ মৌসুমের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ১ মার্চ হজের ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ২৯ এপ্রিল শেষ হবে। এরপর ৯ মে থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের গমন শুরু হবে। হজ মৌসুমের নতুন নির্দেশনা অনুসারে, চুক্তি চূড়ান্ত করার আগ পর্যন্ত হজের স্থানগুলোতে কোনো দেশের জন্য স্থান বরাদ্দ করা হবে না।

গত বছরের জুনে করোনা পরবর্তী সর্ববৃহৎ হজে ১৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ জন বিদেশি হজযাত্রী ছিল। ২০২৩ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মুসলিম ওমরাহ পালন করে, যা ছিল সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত