খুলনায় একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১২ পিএম

খুলনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সুজাতা মন্ডল ও রাতে সীমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই নগরীর শেখপাড়া এলাকার পৃথক দুটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত সুজাতা মন্ডলের বাড়ি পাইকগাছা উপজেলার আমিরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম শ্যামল কান্তি মন্ডল। তিনি এশিয়ান নার্সিং কলেজে বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। অপরদিকে সীমা খাতুন ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ণরত ছিলেন। তার বাড়ি তেরখাদা উপজেলায়। একই প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে দুটি ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সুজাতা মন্ডল কলেজের পাশে শেখপাড়া প্রধান সড়কের হাসিবুর রহমানের বাড়ির চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবার দুপুরে তার ঘর থেকে মোবাইল ফোনের আওয়াজ আসছিল। কেউ ফোন রিসিভ না করায় পাশের বাসিন্দা কক্ষের ছিদ্র দিয়ে সিলিংয়ে সুজাতার লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানান। তিনি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানালে দুপুরে পুলিশ দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশীরা জানান, গত বুধবারের পর থেকে সুজাতাকে ঘরের বাইরে দেখা যায়নি। তিনি একাই ঐ ঘরে ভাড়া থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুজাতা ছিলেন সবার বড়।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই আশিকা রেজা বলেন, ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলতে থাকা মরদেহটি কিছুটা ফুলে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার বিকেলে অথবা রাতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘ সময় মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেধেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

অন্যদিকে শেখপাড়া হাজি ইসমাঈল ক্রস রোডের আমির মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সীমা খাতুনসহ আরও ৪ ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার সবাই বাড়ি চলে যাওয়ায় সীমা একাই বাড়িতে ছিলেন। প্রতিবেশীদের সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ ঘরে ফ্যান ঝুলানোর হুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আবদুল হাই বলেন, মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। শুনেছি তিন মাস আগে স্বামীর সঙ্গে সীমার বিচ্ছেদ হয়েছে। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, দুজনই সুইসাইড নোটে লিখেছে, তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তবে ২ ছাত্রী একই প্রতিষ্ঠানের। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না আমরা তদন্ত করছি। এ ছাড়া একজনের প্রেমের সম্পর্কের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার যদি কোনো মামলা করতে চায়, আমরা মামলা নেব। 

এ ঘটনায় এশিয়ান নার্সিং কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিমা নুর লুবনা বলেন, খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত