অভিনেত্রীরা যখন শুধুই নেত্রী হওয়ার দৌঁড়ে শামিল তখন আমজনতার প্রশ্ন, অভিনেত্রীরা নেত্রী হয়ে গেলে অভিনয় করবে কে? ঠিক বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় হলেও এমনই একটি মন্তব্য শুনলাম বাংলা মোটর মোড়ের চায়ের দোকানে। সেই প্রশ্ন অনুরণন তুললো। আসলেই তো সব নায়িকা যদি রাজনীতিতে চলে যেতে চায় তাহলে অভিনয় কে করবে। আরেকজন ঠিক একই ভাষায় বললেন, মাহিয়া মাহি জিতে নাই, জিতলে তো তিনিও আর অভিনয়ের সুযোগ পেতেন না, কারণ মাহির বয়স অল্প। এখনো নেত্রী হওয়ার অনেক সময় রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালটা শোবিজ অঙ্গনকে বেশ আলোচিত করে তুলেছিল। যার রেশ এখনো কাটেনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংসদের সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি হচ্ছিল, সেখানেই দেখা যায় অভিনেত্রীদের ভিড়। কাল অন্তত সাতজন অভিনেত্রী সংসদ সদস্য হতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আজও কিনেছেন কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে কাল যেমন দিনভর আলোচনা চলেছে চলচ্চিত্রপাড়া থেকে সাধারণ চায়ের দোকানেও, ঠিকই একই রেশ রয়েছে আজকেও।
অভিনেত্রীরা নিজেদের সামনে যুক্ত থাকা এতোদিনের তকমা ছেটে ফেলতে চান। অভিনেত্রী থেকে হতে চান শুধু নেত্রী। আবার এও বলা যেতে পারে, অভি শব্দটা বাদ দিয়ে ঠিক দুই বর্ণের জন শব্দটা যুক্ত করে হয়ে যেতে চান জননেত্রী।
যদিও আলোচিত এই অভিনেত্রীসকল সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। নিজেদের গ্ল্যামারের কারণে, আলোর ঝলক দেখিয়ে সংসদে যেতে চান, বিষয়টি যেমন অভিনেত্রীদের নিকট সহজ তেমনই সাধারণ মানুষ আর রাজপথে থাকা রাজনৈতিক নেত্রীদের কাছে ততটাই আশ্চর্যের।
গতকাল মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়েছিলেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আসমান আক্তার রুনা। তিনি আশ্চর্য হয়েছেন অভিনেত্রীদের ফরম কেনায়। একই সঙ্গে হয়েছেন ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ প্রকাশ করেই বললেন, ‘রাজনীতিতে এসে জীবন-যৌবন নষ্ট করছি। জেল খেটেছি, নিজের পাঁচটা বাড়ি বিক্রি করেছি। নিজের স্বামী ও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। কী লাভ হলো এত সব ত্যাগ করে। এখন যদি এই নায়িকারা এসে মনোনয়ন নিয়ে যায় তাহলে আমাদের মরণ হওয়া উচিত।’
শুধুই আক্ষেপ নয়, বলতে বলতে তিনি কেঁদেও ফেলেন। যদিও অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তীকর এর আগে বলেছিলেন সারাবিশ্বের রাজনীতিতে অভিনয়শিল্পীরা আসেন, সংসদ সদস্যও হন। তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছিলেন। অবশ্য ঊর্মিলার রাজনীতি করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখনো কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
তবে অভিনয়শিল্পীদের মনোনয়ন ফরম কেনা প্রসঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতা জায়েদ খান বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্পী বান্ধব মানুষ। তিনি শিল্পীদের পছন্দ করেন। সব শিল্পীদের দেখেই এগিয়ে যান, হাসিমুখে কথা বলেন। আর এতেই ওই শিল্পী ভেবে বসেন প্রধানমন্ত্রী তাকে এমপি বানাবেন।’
জায়েদ খানের কথা সত্য হোক বা না হোক অভিনেত্রীরা যে সংসদ সদস্য হতে চাইছেন সে কথাতো সত্য।
রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে পারা এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকতে পারাকে সৌভাগ্য বলে মনে করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বললেন, ‘রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলা থেকে মনোনয়নপত্র কিনলাম। আমার এলাকার মানুষ আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। দোয়া রাখবেন, আমি যেন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেন কাজ করতে পারি।’
ফরম কেনার পর নিপুণ বলেন, ‘প্রথমত দোয়া চাই সবার। প্রধানমন্ত্রী যদি যোগ্য মনে করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। ইতিপূর্বে দেশবাসীর কাছে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, সেটাই চাই।’
অপু বিশ্বাস এতোদিন অভিনয় করেছেন। ঢালিউড কুইন হিসেবে তাকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে৷ এখন তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন। নিপুণের কথায় উঠে আসে, তিনি ভালোবাসা পেয়েছেন দেশবাসীর। এখন সেটাই চান। পদ্ধতি একটাই-সংসদে গিয়ে।
ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। বললেন, ‘মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে আমি অনেক আশাবাদী। যেহেতু আমার রাজনীতির ক্যারিয়ার অনেক লম্বা। এলাকাসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। মনোনয়ন পেলে কাজের পরিধিটা আরও লম্বা হবে।’
সোহানা সাবা বলছেন, ‘আমরা খুবই ভাগ্যবান, বিগত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ আামাদের সঙ্গে আছে। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরও থাকবে। অবশ্যই আমি চাইব, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে। অ্যাক্টিভলি আমি রাজনীতি করিনি। তবে নানা সময়ে যখন নির্বাচন হয়েছে, প্রচারণায় আমি ছিলাম। কিন্তু নিজে কখনো এভাবে ভাবিনি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, আমি কখনো রাজনীতি করব, এটা ভাবিনি।’
চিত্রনায়িকা শাহনূর (সৈয়দা কামরুন নাহার শাহনূর) বলছেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বিরোধী দলের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে মাঠে ছিলাম। আমি নিজেও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনীত করলে আমি তার কথা অনুসারে কাজ করতে চাই। নারীদের জন্য কাজ করতে চাই।’
অভিনেত্রীরা এখনো নেত্রী না হলেও তাদের বক্তব্যে কিন্তু রাজনৈতিক নেত্রীদের সুর চলে এসেছে। অন্তত সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য বক্সে এমন মন্তব্যই পাওয়া যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, অভিনেত্রীরা মনোনয়ন ফরম কিনেই রাজনৈতিক নেত্রীদের মতো কথা বলা শুরু করেছেন।
অপু বিশ্বাস, শাহনূর নিপুণরা সংসদে যেতে চাইছেন। তারা গ্ল্যামার জগত থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কতটুকু কাজ করার সামর্থ রাখেন, কিংবা অদৌ তাদের কার্যকরণ কী সে বিষয়ে তাদের ধারণা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে ভক্তরাও চিন্তিত। মনেও ঘুরছে নানা প্রশ্ন। এখন সময় বলবে, অভিনেত্রী থেকে কারা শুধু নেত্রী হতে পারবেন।
জ্যেষ্ঠ সহ সম্পাদক, দেশ রূপান্তর
এনআইডি কার্যক্রম দেখতে ইতালি যাচ্ছেন ইসি রাশেদা
১০ বছর পর দেশে এলেন শাকিব খানের প্রথম নায়িকা
গ্যাস না পেয়ে বন উজাড় করছে পাকিস্তানিরা
আবারও কর্মচারীর বেতন আটকে দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান