নর্থ সিডনি ওভালে আজ ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে তারা হারিয়েছে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ১৭তম ম্যাচে এসে প্রথমবার অজিবধের স্বাদ পেল প্রোটিয়া নারীরা।
রেকর্ডগড়া এক ম্যাচ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এটি। রানের হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ হার। তবে আরেকটু হলে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ম দলীয় সংগহ হতে পারত এই ম্যাচ। ৭১ রানে ৮ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে সেই দুর্নামের হাত থেকে বাাঁচিয়েছে অ্যাশলে গার্ডনার ও কিম গার্থের জুটি। শুধু বাঁচাননি, গড়েছেন নারী ওয়ানডেতে নবম উইকেটে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের জুটি। এর আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের লিনসি আস্কিউ ও ইশা গুহর ৭৩ রানের জুটি।
এদিন আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৫ ওভারে পুজি দাঁড় করায় ৬ উইকেটে ২২৯ রানের। ৮৭ বলে ১২ চারে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মারিজানে কাপ। সুনে লুস, ডি ক্লার্ক, ট্রিওন ও মার্ক্সকে নিয়ে চারটি জুটিতে তিনি যোগ করেন মোট ১৫৮ রান। আনেকে বোশ করেন ৪৪ রান। ক্লোয় ট্রিওন অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে। মেগান শুট ও গার্ডনার দুটি করে উইকেট পান।
২৩০ রানের লক্ষ্যে নামা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিন ব্যাটার অ্যালিসা হিলি, বেথ মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড- তিনজনকেই ফেরান কাপ। কিছুক্ষণ থেকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তালিয়া ম্যাকগ্রা। ৭১ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর দৃশ্যপট কেড়ে নেন গার্ডনার ও গার্থ। গার্ডনার ৩৫ রানে ফিরলেও গার্থ অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে। তাদের রেকর্ডগড়া জুটি কেবলমাত্র হারের ব্যবধানই কমায়। ঐতিহাসিক জয়ের দিনে আয়ান্ডা লুবি, এলিজ-মেরি মার্ক্স ও নাদিন ডি ক্লার্ক প্রত্যেকেই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ট্রিওন একটি উইকেট পান।
এই ম্যাচে নারী ওয়ানডেতে প্রথম কিপার হিসেবে শততম ডিসমিসাল পান অ্যালিসা হিলি। জুলিয়া প্রাইসের ৯৯ ডিসমিসাল ছাপিয়ে তিনিই এখন সর্বোচ্চের অধিকারী। এমন দিনে অস্ট্রেলিয়া নারী দল ১০ ম্যাচ পর এসে হারের স্বাদ পেল। ২০১৭ সাল থেকে খেলা ৬৯টি ওয়ানডের মধ্যে এটি তাদের ৮ম হার। ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্য উপহার দিয়ে দেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়া মারিজানে কাপ হয়েছেন ম্যাচসেরা।
