হতে চেয়েছিলেন রাজনীতিবিদ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৩ এএম

মঞ্চ-টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন অভিনয়শিল্পী আহমেদ রুবেল। হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র ও নাটকে আহমেদ রুবেলের সাবলীল অভিনয় এদেশের মানুষ গ্রহণ করেছে আনন্দের সঙ্গে।

‘প্রিয় সত্যজিৎ’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে বিদেশে প্রশংসা ও পুরস্কার দুটোই পেয়েছেন তিনি। ভারতের জয়পুর থেকে এই সিনেমার জন্য তিনি সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। প্রিয় সত্যজিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন প্রসূন রহমান।

বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে চিরঞ্জীব মুজিব চলচ্চিত্রে অভিনয় আহমেদ রুবেলের জীবনে বড় ঘটনা। বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করাটা খুব একটা সহজ নয় বলেই তিনি এক কথোপকথনে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, অজানা, অচেনা চরিত্রে সহজেই অভিনয় করা যায়, কিন্তু বঙ্গবন্ধু এমন একজন ব্যক্তি যাকে সবাই চেনে, যার প্রতিটি ভঙ্গিমা সবার মুখস্থ। যার ফলে এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে আমি টেনশনে পড়ে যাই। ভালো যেমন লেগেছিল, কিছুটা ভীতিও ছিল। তারপরেও ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর এই সময়কালটা যেহেতু এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন দেখানো হয়েছে সেহেতু কিছুটা সাহস পেয়েছি। কেননা এমন চরিত্রে অভিনয় করাটা অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।

সেলিম আল দীনের ‘ঢাকা থিয়েটার’ থেকে আহমেদ রুবেলের অভিনয়ের হাতেখড়ি। আহমেদ রুবেল অভিনীত প্রথম নাটক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নযাত্রা’। হুমায়ূন আহমেদের ঈদনাটক ‘পুষ্পকথা’য় অভিনয় করেন, যেখানে তার অভিনীত ‘ঘোড়া মজিদ’ চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৩ সালে ‘আখেরী হামলা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। পরে তিনি অভিনয় করেছেন

‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’ ‘ব্যাচেলর’, ‘গেরিলা’, ‘দ্য লাস্ট ঠাকুর’ সিনেমায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক ‘অতিথি’, ‘নীল তোয়ালে’, ‘বিশেষ ঘোষণা’, ‘প্রতিদান’, ‘নবাব গুন্ডা’, ‘এফএনএফ’ প্রভৃতি। ২০১৪ সালে ভারতের নির্মাতা সঞ্জয় নাগ পরিচালিত ‘পারাপার’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। দরাজ কণ্ঠের জন্যও আহমেদ রুবেলের খ্যাতি ছিল। নিজের কাজ নিয়ে সবসময় খুশি ছিলেন এই অভিনেতা। বলেছিলেন, ‘অনেক জীবন ঘনিষ্ঠ সিনেমা ও নাটকে অভিনয় করেছি। এসবের জন্য আমি হ্যাপি।’

যে কোনো চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন এই অভিনেতা। এ বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল, যা বিশ্বাস করি তাই করি। যে কাজটি করি তার প্রতি দরদ ও ভালোবাসা তৈরি হয় প্রবলভাবে। প্র্যাকটিস করি। ডেডিকেশন নিয়ে কাজটি করি। চরিত্রটি মাথার মধ্যে নিয়ে নিই।

অভিনয়ে যিনি রঙ ছড়িয়েছেন, বিমুগ্ধ করেছেন তিনি হতে চেয়েছিলেন রাজনীতিবিদ। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই ডানপিটে ছিলাম, মারামারি করতাম সুযোগ পেলেই। একসময় রাজনীতির দিকে ঝুঁকতে শুরু করলাম, যদিও তখনো ম্যাট্রিকের গণ্ডি পার হইনি। আমি রাজনীতিবিদ হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার কঠোর নির্দেশ ছিল- পরিবার থেকে এ বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত