ঢাকায় আমার কোনো ফ্ল্যাট নেই, বাড়ি নেই

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৩ এএম

সম্প্রতি অনেক নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা রাজপথে থাকেন, তারা ত্যাগী। অথচ সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে লাইন ধরেছেন নায়িকারা। এই ক্ষোভকে সংগতই বলছেন চিত্রনায়িকা শাহনূর। তিনি বলছেন, ‘তারা ত্যাগী, দলের জন্য অনেক কিছুই করেন এটা ঠিক আছে। অবশ্যই তারা দলের যেকোনো পদের জন্য কিংবা সংসদ সদস্য পদের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। শিল্পীদের অবদান কেউ যদি নাকচ করে দেন, তাহলে সেটাও কিন্তু ভুল হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে কিন্তু শিল্পীদের ভূমিকা কিংবা স্বাধীন বাংলা বেতারের ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। দেশের সব সংকটময় মুহূর্তে শিল্পীরা দেশের পাশে, দলের পাশে ছিল। তারাও মানুষের জন্য কাজ করতে একটু বড় প্ল্যাটফরম খোঁজে। আমার চিন্তাটাও সেখান থেকে। আমিও তো মানুষের জন্যই কাজ করছি।’

শাহনূর ২০০০ সালে পর্দায় অভিষিক্ত হন। এখন পর্যন্ত শাকিব খানের সঙ্গে ১২টি, রিয়াজের সঙ্গে ১১টি, মান্নার সঙ্গে ১১টি, ফেরদৌস ও অন্যান্য অভিনেতাদের সঙ্গে অজস্র কাজ করেছেন। এসব তথ্য উল্লেখ করে শাহনূর বললেন, ‘দেখেন ২৪ বছর আমার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার। এর মধ্যে আমি ৮০টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, নাটক-টেলিফিল্ম করেছি ৪৫০টির মতো। অসংখ্য সাংস্কৃতিক কাজ করেছি। কিন্তু ঢাকায় আমার একটা বাড়ি নেই, নিজস্ব ফ্ল্যাট নেই। এখন মগবাজারের যে ফ্ল্যাটে আছি এখানে ২৩ বছর ধরে ভাড়া আছি। তাহলে আমার টাকা কোথায় গেল? আমি আমার আয়ের অর্ধেক ব্যয় করি, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য, মানুষের জন্য। ঢাকা, যশোর, নড়াইলের, শ্রীমঙ্গলসহ কয়েকটি অঞ্চলের প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আমি কাজ করি। এ ছাড়াও বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে, রয়েছে আমার নামে একটি ফাউন্ডেশন। যেখান থেকে আমি মানুষকে বিভিন্ন সময় সহায়তা করতে পারি।’

শাহনূর নিজের অর্থায়নে রাস্তাঘাট, কালভার্ট বানিয়ে দিয়েছেন নিজ এলাকা নড়াইলে। এমনটাই জানিয়ে বললেন, ‘করোনার পরে আমার গ্রামের বাড়ি নড়াইলে গিয়ে দেখি সেখানে অনেকেই তাস খেলছে। সিগারেট বিড়ি ফুঁকছে। একটা গ্রাম, সেখানে এই পরিবর্তন আমি মানতে পারলাম না। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে একটা পথ তৈরি হলো। ওদের জন্য একটা ক্লাব তৈরি করে দিলাম, খেলার সরঞ্জাম দিলাম। ক্লাবের নাম কাজলা ক্লাব। এটা নড়াইল সদরের পেরুলিয়ায়। এ এলাকায় আমি চার থেকে পাঁচটি নিজের অর্থায়নে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছি। কালভার্ট করে দিয়েছি, এজন্য আমি কারও কাছে হাত পাতিনি।’

শাহনূর সংসদ সদস্য হতে চান, কারণ বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সবসময় দেশের কথা ভাবতেন। যুদ্ধ করেছেন ৮ নম্বর সেক্টরে। ২০১৪ সালে লিভার ক্যানসারে মারা যাওয়ার আগে শাহনূরকে বলেছিলেন, এইসব কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে, রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে। তাই এবার চেষ্টা করছেন সংসদ সদস্য হতে। এ বিষয়ে শাহনূরের বক্তব্য, ‘আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সে কারণেই এবার ফরম তুলেছি। সংসদ সদস্য হতে পারলে আমি যেসব কাজ করেছি সেসবের পরিধি বাড়াতে পারতাম।’

আজ (শনিবার) শাহনূরের জন্মদিন। এই দিনটা কাটাবেন প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে। কুড়িল এলাকায় একটা ছোট আয়োজন রয়েছে। এরপর হাইকোর্ট মোড়ে পথশিশুদের সঙ্গে আয়োজন রয়েছে, তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাব।

অভিনয়ের পাশাপাশি এই অভিনেত্রী নির্মাণেও মনোযোগ দিয়েছেন। বানাচ্ছেন বেশকিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বললেন, “আমি মূলত স্বলদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো বানাচ্ছি শিশুদের উপযোগী করে। যেন শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ বুঝতে পারে, বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে পারে। এ ছাড়া আসন্ন দুই ঈদে শাহনূরের দুটি ছবি মুক্তি পাবে। একটি করোনাকালের জীবন নিয়ে ছটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ অন্যটি ‘রাজকুমারী’।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত