বীর মুক্তিযোদ্ধা, পরিবেশবিদ, কর্ণফুলী গবেষক-লেখক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে সাইবার আদালতে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনারও দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পুনঃনিরীক্ষণ ইস্যুতে তাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাইবার আদালতে এই মামলা করেছিলেন নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথ।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট এবং চট্টগ্রামের সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিথ্যা, প্রতিহিংসামূলক এ মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মানবন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সচিবের ছেলের পরীক্ষার ফলাফলের পুনঃনিরীক্ষণ রহস্য ও ফলাফল কেলেঙ্কারি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের সুবাদে জনমনে বিভিন্ন প্রকার সন্দেহ, ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের দুর্নীতির নজিরবিহীন এসব ঘটনা নিয়ে জনমানসে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনাকে পাশ কাটাতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব নারায়ন চন্দ্র তার স্ত্রীকে দিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আরেকজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদের প্রতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি চরম অবমাননাকর, আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ টিএম সরোয়ার কামাল দুলু, মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের মহাসচিব ফাহিম উদ্দিন, ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. শাহা আলম ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাফফর আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ ইউনুস, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আক্তার টুনু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং পেশাজীবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।
এ ঘটনায় গত ২৫ জানুয়ারি বনশ্রী নাথ চট্টগ্রামের সাইবার আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং এতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ থেকে অবসরে যাওয়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ ইদ্রিস আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করেন। মুহম্মদ ইদ্রিস মিডিয়ায় বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুতে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য,অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু বাংলা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে জিপিএ ৫ পেলেও চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ ৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে জিপিএ ৫ পেয়েছেন নক্ষত্র দেবনাথ। ফলাফল প্রকাশের পর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে নক্ষত্র দেবনাথের পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন আগেই কে বা কারা করে ফেলেছে বলে জানা যায়। নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথের করা জিডিতে এ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল। তখন কে বা কারা এই পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন করেছেন তা জানতে গত ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেছিলেন বনশ্রী নাথ। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায়, নগরীর চকবাজার এলাকার চকরিয়া কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে টেলিটক নম্বরের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। আর সেই আবেদনে রেফারেন্স নম্বর হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আলীমের মোবাইল নম্বর। এদিকে রেফারেন্স নম্বর শিক্ষা বোর্ডের একটি চক্র ব্যবহার করেছে এবং তদন্ত করে বের করতে গত ২৬ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছেন আবদুল আলীম।
