কৃষক আন্দোলন

দ্বিতীয় দিনেও পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপ

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৬ পিএম

কৃষক আন্দোলনের আবহে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনভর উত্তপ্ত ছিল ভারতের রাজধানী সংলগ্ন এলাকা। কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারী কৃষকদের প্রতিনিধিদল তৃতীয় বারের মতো বৈঠক করতে পারে বৃহস্পতিবার। সূত্রের খবর, তৃতীয় বৈঠকের দিন স্থির হয়েছে। এখনও সময় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কৃষকদের সঙ্গে বিকালে বৈঠক করবে কেন্দ্র।

কেন্দ্রের কাছে নিজেদের দাবি-দাওয়ার পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার থেকে ‘দিল্লি চলো’ যাত্রা শুরু করেন কৃষকরা। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা— মূলত এই তিন রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৩০০ ছোট-বড় কৃষক সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবারের পর বুধবারও সারা দিন সরগরম ছিল পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের একাংশ।

এদিন সকাল থেকেই সিঙ্ঘু সীমানায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কৃষকদের রুখতে বদ্ধপরিকর ছিল পুলিশ। গাজীপুর সীমান্তে বহুস্তরের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কৃষকদের প্রতি ‘নরম মনোভাব’ দেখানো হবে না। তারা যদি আক্রমণাত্মক হন, তবে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

তবে এর মধ্যেই কয়েকশ ট্রাক্টর নিয়ে শম্ভু সীমানায় জমায়েত শুরু করেন কৃষকেরা। উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় নতুন করে। দিল্লি-সোনিপত লাগোয়া সিঙ্ঘু এবং দিল্লি-বাহাদুরগড় লাগোয়া টিকরি সীমানায় যানবাহন চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষুদ্ধ কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে আবার কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। তা থেকে বাঁচতে মুলতানি মাটি মাখেন কৃষকেরা।

কৃষকদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি কৃষকদের ‘ভারত বনধ’ পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকাইত। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

কৃষক আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে কৃষকদের দু’টি বড় সংগঠন সংযুক্ত কিসান মোর্চা এবং কিসান মজদুর মোর্চা। গত ডিসেম্বরেই তারা দাবি আদায়ের জন্য ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দেয়।

আন্দোলনে নামা কৃষকদের দাবি ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্যের আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে সমস্ত কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে। স্বামীনাথন কমিশনের প্রস্তাব মেনে ফসলের ন্যায্য সহায়ক মূল্য দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। ২০২০-২১ সালের প্রতিবাদে কৃষকদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মামলা খারিজের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে দুই রাজ্যের মধ্যবর্তী শম্ভু সীমানায় মঙ্গলবার প্রতিবাদী কৃষকদের রুখতে ড্রোন দিয়ে কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোড়ে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ এবং কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবারও প্রায় একই ছবি দেখা গেছে কৃষক আন্দোলনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত