ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ফলাফল গণনায় ভোটের ৫৫ শতাংশেরও বেশি জিতেছেন তিনি।
সুবিয়ান্তো এর আগেও দুই বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এবার ইন্দোনেশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন তিনি। খবর বিবিসির।
সুবিয়ান্তো কে
১৯৫১ সালে অতি ধনী এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রাবোও সুবিয়ান্তো। তার পিতা ছিলেন দ্বীপরাষ্ট্রটির অন্যতম বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ সুমিত্রো জোজোহাদিকুসুমো।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর সময়ে অর্থমন্ত্রী এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রাবোওর বাবা।
লন্ডনের আমেরিকান স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন এবং স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। তবে ছোট থেকেই রাজনৈতিক দিকে আকর্ষণ ছিল তার।
যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর এবং সুইজারল্যান্ডের অবস্থানের পর ১৯৭০ সালের ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে আসেন সুবিয়ান্তো এবং সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সে সময় তিনি দেশটির অভিজাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ড কোপাসাসের অংশ হয়ে ওঠেন।
১৯৮৩ সালে তিনি ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর মেয়ের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন যা পরবর্তীতে তাকে ক্ষমতা ও সম্পদ দুটোই বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছিল।
তবে সুবিয়ান্তোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে শুরু করায় সে সময় সমালোচকদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দমনমূলক গোপন অভিযানে জড়িত হয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া সেই সময়ই সুবিয়ান্তোর বিরুদ্ধে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তার নেতৃত্বে ২০ জনেরও বেশি ছাত্র বিক্ষোভকারীকে নির্যাতন করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১৩ জনের খোঁজ কখনোই পাওয়া যায়নি। সে সময় তিনি অপহরণের কথা স্বীকার করলেও কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
তবে রক্তপাতযুক্ত অতীত সত্ত্বেও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন সুবিয়ান্তো।
কীভাবে জয় নিশ্চিত করলেন সুবিয়ান্তো?
এর আগেও দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন সুবিয়ান্তো। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর কাছে পরাজিত হওয়ার পর এবার নির্বাচনে উইদাদোর ছেলের সাথেই হাত মিলিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন প্রাবোও।
জোকো উইদাদোর ছেলে জিবরান রাকাবুমিং এর সাথে জোট করেই নির্বাচন করেছেন প্রাবোও। আর তাই ধারণা করা হচ্ছে প্রাবোও এর পেছনে সমর্থন রয়েছে জোকো উইদাদোর ও ।
এছাড়া ইমেজ মেকওভার ত্রিডি কার্টুন এবং টিকটক এর মাধ্যমেও ব্যতিক্রমী নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছে তার দল। এই প্রক্রিয়ায়, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের তরুণদের মধ্যে একটি বিশাল সংখ্যক অনুসারি তৈরি করেছেন তিনি।
যদিও ইন্দোনেশিয়ান ভোটারদের অর্ধেকেরও বেশি ৪০ বছরের কম বয়সী এবং বেশিরভাগেরই সুবিয়ান্তোর অতীত সম্পর্কে জ্ঞান নেই।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থান হারাল জাপান
ক্যানসারের টিকা তৈরির শেষপ্রান্তে রাশিয়া!