মেট্রোলাইনের পাশে ঘুড়ি-ফানুস উড়ানো নিয়ে বিজ্ঞপ্তি এবং ...

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৫ পিএম

ঢাকার মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুৎ–চালিত। ঝুলন্ত তারের সঙ্গে ট্রেনের সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন হয়। এই ব্যবস্থায় ঘুড়ি, ফানুস, কাপড় কিংবা এ–জাতীয় বস্তু আটকে গেলে বিদ্যুৎ পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়, যা থেকে মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

সম্প্রতি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেট্রোলাইনের উভয়পাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে ঘুড়ি, ফানুস, গ্যাস বেলুন বা এ ধরনের যেকোনো বিনোদন সামগ্রী না উড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

ডিএমটিসিএল বলছে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করে মেট্রো ট্রেন চলাচল করে। ফলে ঘুড়ি, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ইত্যাদি বা অনুরূপ কোনো বস্তু ওড়ানো হলে ওই লাইনে জড়িয়ে যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে। কেউ বলছেন, মেট্রোতে পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ কেউ লাহোর ও দুবাইয়ের প্রযুক্তির কথা বলেছেন। কেউ ডিজাইনের দুর্বলতার কথা বলছেন। কেউ আবার আগে নিজেদের পরিবর্তন হওয়ার কথাও বলছেন। 

ফেসবুকে মেট্রোরেলের একটি কমিউনিটি গ্রুপে হাবিব গজিনি লিখেছেন, 'ঘুড়ি ওড়ানোটা দেখলেন কিন্তু বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ঢাকা মেট্রোতে ব্যবহৃত সবচেয়ে পুরাতন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে সেটা নিয়ে কখনো কথা বলেছেন? সব দোষ পাবলিকের আর কর্তৃপক্ষ অলি আউলিয়া, তাই না?
দুবাইয়ের মেট্রো খুব বেশি দিন আগের না, পুরো মেট্রো রেলের লাইনের দুপাশে বা ওপরে কোনো ইলেকট্রিক তার বা খাম্বা দেখি নাই। ঢাকার মেট্রো ২১ শতকে এসেও তার খাম্বা দিয়ে বানিয়েছে, মনে কি একবারও প্রশ্ন জাগে না?'

তবে সেখানে সাইমুম সাফায়েত আকাশ কমেন্ট করেছেন, 'কোনটা আধুনিক প্রযুক্তি সেটাতো ওভারহেড লাইন নাকি থার্ড রেল এইটা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন না। কোন কনটেক্সটে কেন কোনটা ব্যাবহার করা হয় সেটাও তো মাথায় রাখতে হবে নাকি?'

রাকিবুর রহমান রাকিব লিখেছেন, 'ওভারহেড এবং থার্ড রেল বিদ্যুতায়নের মধ্যে আপনাকে শুধুমাত্র একটি পার্থক্য দেখাই। ওভারহেড বিদ্যুতায়নের ফলে আমরা ৬ কোচবিশিষ্ট ট্রেন দ্বারা অপারেশন শুরু করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতে ৮ কোচ পর্যন্ত উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। এমআরটি লাইন-১ এ ৮ কোচবিশিষ্ট ট্রেন দ্বারাই অপারেশন শুরু করা হবে। অন্যদিকে থার্ড রেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ৫ কোচের বেশি ট্রেন সেট পরিচালনা করা যেত না। দুবাইয়ের উদাহরণ দিচ্ছেন, দুবাইতে পাঁচ কোচবিশিষ্ট ট্রেনই চলে।'

কামাল হোসেন লিখেছেন, 'দুবাই এর মতো পাওয়ার লাইনে ব্যাক করা খুব কঠিন কাজ হবে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ঘুরি উড়ে নিচের লাইনেও পরতে পারে। আগুনও ধরতে পারে। তাই আগে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে।' হাসিবুর রহমান লিখেছেন, 'ঘুড়ি তারের ওপর পড়া আর লাইনের ওপর পড়ার মধ্যে পার্থক্য কি? লাইনের ওপর ঘুড়ি পড়লে মেট্রো চলবে?'

রিজভী শাহরিয়ার লিখেছেন, 'প্রযুক্তি বা যুগোপযোগী হয়েছে কিনা ওসব বড় মাথার বিষয়ে মন্তব্য করবো না। তবে সামান্য ঘুড়ি বা কাগজ-টাগজ পড়লেই যদি মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তবে এটা তো এক ধরনের নিরাপত্তা হুমকিও। আর টোকাই পোলাপান তো এটাকে খেলা বানিয়ে ফেলতে পারে একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ করে যে দেখি কে কয়বার মেট্রো ট্রেন আটিকাইতে পারি! এর একটা যুগোপযোগী সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করি।'

আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, 'এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে, হা হুতাশ করে কোন লাভ হবে না, সমাধানের উপায় জানা থাকলে বলেন। এভাবে সামান্য একটা ঘুড়ি পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সার্ভিস বন্ধ হয়ে থাকবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।' তামজিদ ইসলাম লিখেছেন, 'মেট্রোর প্রযুক্তি মান্ধাতামালের সেটা অনেক আগেই বলেছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশি কিছু দালালদের ভিড়ে ভালো কথার দাম নাই।'

আশিকুল ইসলাম লিখেছেন, 'এদের নেতারা বলে মেট্রোই কেউ উঠবে না, পদ্মা সেতু কেউ ব্যবহার করবে না, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোন কাজে আসবে না, টানেল কেউ ব্যবহার করবে না।
জনগণ কোন কিছু ব্যবহার করবে না দেখেই কষ্ট করে তারা পাঁচ বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও তৈরি করে নাই, অবকাঠামোগত কোন কাজও করে নাই। জনগণ ব্যবহার করবে না যেখানে সেখানে এত টাকা নষ্ট করে লাভ আছে? তাই পুরোটা জনগণের স্বার্থে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে নিতো।'

সোহেল রহমান লিখেছেন, 'ভাই মানসিকতা বদলানো খুব দরকার। নতুনকে গ্রহণ করা শিখতে হয় এবং নিজের মনে করলে সব সমাধান হবে। আমরা এমনই জাতি যারা মেট্রোতে উঠে বাদাম খাই।'

এইচ হাফিজ লিখেছেন, 'ঢাকা মেট্রোরেলের ডিজাইন এবং প্রযুক্তিগত দুর্বলতা অবশ্যই আছে। লাহোর মেট্রোরেল কিন্তু আমাদের কাছাকাছি সময়ে চালু হয় এবং থার্ড রেল প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে অথচ আমাদের ঢাকায় যেখানে সাকরাইন এর মতো উৎসব হয় সেখানে আমারা ঘুড়ি আটকে যাওয়া মত ঘটনা আমলেই নেইনাই এটা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যর্থতা, চালু হওয়ার এক বছরের মধ্যেও শেওরাপাড়া স্টেশনের সিঁড়ি চালু করতে পারেনি!'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত