রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যা একসময় ছিল মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের অন্যতম ভরসার জায়গা। ঢাকার বিত্তবান পরিবারের সদস্যরাও সেবা গ্রহণ করতেন এই হাসপাতাল থেকে। রাজধানীতে যখন সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসার তেমন একটা সুযোগ ছিল না তখন এই হাসপাতালটিই ছিল ধনী, গরীব নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আস্থাস্থল।
নানা অব্যবস্থাপনা ও সেবার মান কমে যাওয়ায় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে রোগীর সংকট দেখা দিয়েছে। এই হাসপাতালে এখন দিনে গড়ে ২০০ জনের কম রোগী ভর্তি থাকেন, ফলে বেশিরভাগ শয্যা ও কেবিন খালি পড়ে থাকে। হাসপাতালে রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম এবং অনুদান থেকে যে টাকা আসে তা দিয়েই বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় ব্যয় মেটাতে হয়। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হলেও রেড ক্রিসেন্ট কোনো আর্থিক সহায়তা দেয় না। প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত চিকিৎসকরা মেডিকেল কলেজের কোষাগার থেকে বেতন পান। অন্যদিকে রেজিস্ট্রার, কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয় হাসপাতালের আয় থেকে।
দিনে দিনে রোগী কমে যাওয়ার পেছনে এই হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও হাত রয়েছে। হাসপাতালটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তি থাকা রোগীদের কৌশলে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছেন প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের বেশকিছু চিকিৎসক। এই কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যেহেতু হাসপাতাল থেকে প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পযায়ের চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না, তাই তাদের হাসপাতালের প্রতি দরদ কাজ করে না। এই চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা ভালো না, যন্ত্রপাতি নেই- এমন বিভিন্ন কথা বলে রোগীদের এই হাসপাতালে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান। আর ভাগিয়ে নেয়া রোগীপ্রতি তারা সেসব ক্লিনিক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি চিকিৎসকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বহির্বিভাগে ২টা পর্যন্ত রোগী দেখার কথা থাকলেও চিকিৎসকরা চেম্বারে বসেন না।
হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডা. এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলছি। ধীরে ধীরে এই প্রবণতা কমছে'।
