রাজনীতি কত নোংরা হতে পারে এই নির্বাচনে দেখেছি: জি এম কাদের

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০৭ পিএম

রাজনীতি কতটা নোংরা হতে পারে তা এবারের নির্বাচনে দেখেছি উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, এখন যারা আমাকে মূল্যায়ন করছেন সেটা হয়তো সঠিক হচ্ছে না। সময়ের ব্যবধানে সব কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে। গেল নির্বাচনে আমি অনেক কিছুই শিখেছি। দেখেছি... রাজনীতি কত বেশি নোংরা হতে পারে, আবার কত বেশি মহৎ হতে পারে। দেখেছি, ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য মানুষ কত নিচে নেমে যেতে পারে। দেখেছি, দেশ ও জাতির জন্য মানুষ কত বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। এগুলো আমার চলার পথে পাথেও হয়ে থাকবে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিজের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কাটা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, ১৯৯০ সালের পর জাতীয় পার্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে আমাদের দেশের দলগুলো টিকতে পারে না। ক্ষমতাসীনরা জুলুম-নির্যাতন করে আমাদের রাজনীতি করতে দেয়নি। যারা ক্ষমতাসীন দল করতে এসেছিল তারা নব্বই সালের পর দল ছেড়ে চলে গেছে। তারা দল বা দেশের স্বার্থ দেখেনি। ২০০৮ সালে যখন আমরা মহাজোট করেছি তখন অনেকেই বলেছে, আমরা পরজীবী হয়ে গেছি। তারা বলেছেন, আমরা নাকি অন্যের সহায়তা ছাড়া নির্বাজনে জয়ী হতে পারি না। দেশের বড় দুটি দলের নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়। সেই অল্প ভোট তো আমরা দিতে পারতাম। আমরা যদি পরজীবী হই তারপরও আমাদের কাছে টানতে প্রতিযোগিতা ছিল।

আমাদের দলের মধ্যে সরকারি দলের এজেন্ট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আমাদের দল করে কিন্তু রাজনীতি করে অন্য দলের। আমাদের দল করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয় কিন্তু রাজনীতি করার সময় তারা সরকারি দলের রাজনীতি করে। যখনই আমরা সঠিক রাজনীতি করতে চাই, তখনই আমাদের দলকে ভেঙে আরেকটি দল সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। এটা সরকারই করে, যাতে আমরা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে না পারি।

তিনি বলেন, যারা জাতীয় পার্টি ব্যবহার করে অন্য দলের রাজনীতি করতে চায় তাদের দল থেকে বের করে দিতে হবে। এটা করতে পারলেই জাতীয় পার্টি টিকবে। দেশও জাতির কাছে গৃহপালিত বিরোধীদলের প্রয়োজনীয়তা নেই। আমরা একটি দলের কাছে বন্দি হয়ে গেলে জনগণের কাছে আমাদের প্রয়োজন থাকবে না। আর জনগণ কেন এমন দলকে ভোট দেবে? দলকে বাঁচাতে হলে গৃহপালিত অপবাদ থেকে বের হতে হবে। যারা গৃহপালিত হবার জন্য দায়ী তাদের বর্জন করতে হবে। আমাদের দলে থেকে অন্যদলের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। সরকারকে অনুরোধ করব দেশের রাজনীতি শেষ করবেন না। রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেন। সবাইকে ধংস করে সরকার একক রাজনীতি করবে এটা দেশ ও জাতির জন্য ভালো হবে না।

ভাষার মাসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আমাদের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা হয়নি, আমাদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা হচ্ছিল না। তখন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও সংশয় ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের সাথে বৈষম্য করেছিল। আমরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলাম, আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে সংগ্রাম করেছিলাম। সেই আন্দোলনেই আমাদের ভাষা শহীদরা জীবন দিয়েছিলেন।

একুশের মূল মেসেজ হচ্ছে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবেই বৈষম্য করা হচ্ছে। চাকরি পেতে গেলে জিজ্ঞেস করা হয় তুমি ও তোমার পরিবার কি আওয়ামী লীগ করে? আওয়ামী লীগ না করলে চাকরি মেলে না। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই তো একুশের সংগ্রাম। একুশের চেতনা ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ছয় দফা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছে। যেটাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বলি। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা জয়ী হলেও মুক্তিযুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারিনি।

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া, নাজমা আখতার, মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত