ইউক্রেনে রাশিয়াকে পরাজিত করা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। কিয়েভের কাছ থেকে আরও অস্ত্র সাহায্যের জন্য জরুরি আবেদন আসার মধ্যে এ কথা বললেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউক্রেনে মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা সরবরাহ করতে একটি জোট গঠনে রাজি হয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনো মতৈক্য হয়নি। কিন্তু তাই বলে সেনা পাঠানোর বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যাতে জিততে না পারে, সেজন্য যা যা করা দরকার সবই আমরা করব।’
বিবিসি জানায়, গত সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জরুরি বৈঠকে সমবেত হয়েছিলেন ২০টি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মাখোঁ বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার পরাজয় অপরিহার্য। রাশিয়াকে একমাত্র আগ্রাসী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার জনগণের সঙ্গে যুদ্ধে নেই। আমরা শুধু রাশিয়াকে যুদ্ধে জিততে দিতে চাই না।’
এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, রাশিয়ার হামলা মোকাবিলা করতে ইউক্রেনের সহায়তা সম্পর্কে ইউরোপে নীতিগত ঐকমত্য থাকলেও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই জার্মানি সে দেশকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা দিলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে নারাজ। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সম্প্রতি ইউক্রেনকে টাউরুস ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে নিজের দ্বিধার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। জার্মান অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালালে জার্মানিও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অবশ্য স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো মনে করিয়ে দেন, যে দুই বছর আগে রাশিয়ার হামলার শুরু হওয়ার পরেও অনেকে ইউক্রেনকে ট্যাংক বা যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, বিনয়ের সঙ্গে তৈরি ফ্রান্স! স্বীকার করা উচিত যে অবশেষে ছয় থেকে বারো মাস দেরিতে সেই সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট প্যারিস সম্মেলনের পর বলেন, আপাতত ইউক্রেনের কমে আসা গোলাবারুদ ও অস্ত্র সশস্ত্রের প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে আরও সামরিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আরও বেশি ও আরও দ্রুত মাঝারি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা সরবরাহ করে ইউক্রেনকে সাহায্য করতে চায় ইউরোপ। এমনকি ইউরোপের বাইরে থেকেও গোলাবারুদ কিনতে ইউক্রেনকে সাহায্য করার পক্ষেও আলাপ হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে প্যারিস সম্মেলনে যোগ দেন। সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি সমবেতভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অবশ্য হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সেনাদের পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রে। এ ছাড়া ইউক্রেনে ন্যাটো সেনাদের পাঠানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। গতকাল মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলো থেকে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা আলোচনা একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নতুন উপাদান। ইউক্রেনে লড়াইয়ের জন্য ন্যাটো সদস্য দেশের সেনা পাঠালে কেমন ঝুঁকি থাকবে, এক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেছেন, ‘এমনটি হলে আমাদের সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই, আমাদের অনিবার্যতা (সরাসরি সংঘাতের) নিয়ে কথা বলতে হবে।’
ক্রেমলিন মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত যে, এমন দৃশ্যপট তাদের দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে যায় কি না।
