গত ৯০ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে কম বিয়ে হয়েছে জাপানে। এ ছাড়া দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম শিশুর জন্মও হয়েছে গত বছর। বিয়ে কম হওয়ায় সামনের বছরগুলোতে আরও কমতে পারে জন্মহার। সরকারি এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই তথ্য। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সন্তান জন্ম দেওয়ায় উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির সরকার।
স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী- ২০২৩ সালে জাপানে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩১ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম। ১৮৯৯ সালে জাপান এই পরিসংখ্যান সংকলন শুরু করার পর থেকে এটিই সর্বনিম্ন জন্মহারের রেকর্ড।
পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিয়ের সংখ্যা কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২৮১ দম্পতিতে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত ৯০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্ধ মিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে। এটি শিশু জন্মহার কমার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে পিতৃতান্ত্রিক ঐতিহ্যের উপর ভিত্তিতে এবং পারিবারিক মূল্যবোধের কারণে জাপানে বিবাহবহির্ভূত সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা বিরল।
জরিপে দেখা গেছে, অনেক তরুণ জাপানিরা বিয়ে বা পরিবার গঠনে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে চাকরির সম্ভাবনা কম থাকায় তারা নিরুৎসাহিত হন। এ ছাড়া আয়ের চেয়ে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়া এবং কর্পোরেট সংস্কৃতি- যা বাবা-মা উভয়েরই কাজ করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কারণও উল্লেখযোগ্য। এমনকি কান্নাকাটি করা শিশু এবং শিশুদের বাইরে খেলাধুলা করা ক্রমবর্ধমানভাবে একটি উপদ্রব হিসাবে বিবেচিত হয় তাদের কাছে। এর বাইরে অনেক তরুণ বাবা-মা বলেন যে তারা প্রায়শই বিচ্ছিন্ন বোধ করেন।
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদের সচিব ইয়োশিমাশা হায়াশি বলেছেন, জন্মসংখ্যায় বিশাল বিচ্যুতি দেখছে জাপান। আগামী বছরগুলোতে আরও প্রকট হবে এটি। কমে যাবে তরুণদের সংখ্যা। জন্মসংখ্যা কমে যাওয়া রোধে, ৩টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তরুণদের আয় বাড়ানো, সামাজিক সচেতনতার ধরন বদলানোসহ যেসব পরিবারে শিশু আছে, তাদের সহায়তা দেবে সরকার।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা নিম্ন জন্মদানকে 'জাপানের সবচেয়ে বড় সংকট' বলে অভিহিত করেছেন এবং একটি প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন যার মধ্যে বেশিরভাগ প্রসব, শিশু এবং তাদের পরিবারের জন্য আরও সহায়তা এবং ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সরকারের এই প্রচেষ্টা কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে তারা সন্দিহান। কারণ, এখন পর্যন্ত তারা মূলত এমন লোকদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে যারা ইতোমধ্যে বিবাহিত বা ইতোমধ্যে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে বিয়েতে বা পরিবার গঠন করে সন্তান নিতে অনাগ্রহী তরুণদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে যথেষ্টভাবে সম্বোধন করা হয়নি ওই প্রণোদনা কর্মসূচিতে।
উন্নত আর্থ-সামাজিক অবস্থার মূল কারণ সুশিক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা-গ্রেপ্তারে গণঅধিকার পরিষদের নিন্দা