বাবা আমরা কি পুড়ে মারা যাচ্ছি। বাবা আমার জন্মদিনটা কি মৃত্যুদিন হয়ে যাচ্ছে? বড় মেয়ের (১২) জন্মদিন ছিল আজ (গতকাল)। সে আবদার করেছিল, রাতে রেস্তোরাঁয় নিয়ে যেতে হবে। রাত ১২টা বাজার পর সেখানেই কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করবে এই ছিল মেয়ের ইচ্ছে। তার অনুরোধ মেনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বেইলি রোডের পাঁচতলার জেস্টি রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং প্রতিষ্ঠানটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান। পরিবেশদূষণ নিয়ে গবেষণার কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। জানালেন ভয়াবহ আগুনের হাত থেকে বেঁচে আসার কথা।
কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘রেস্তোরাঁয় ঢোকার খানিক পরে খাবার অর্ডার দিই। কোনো একটা কিছু পুড়ে যাওয়ার গন্ধ পাচ্ছিলাম। আমি একটু উঠে দেখতে গেলাম। খানিকটা হেঁটে জানালার পাশে গেছি। সেখানে গিয়ে দেখি লোকজন জড়ো হয়ে চিৎকার করে রাস্তার উল্টো দিকের একটি ভবন দেখাচ্ছে। অনেকে সেদিক যাচ্ছে। একপর্যায়ে চিৎকার বেড়ে গেল। ইতিমধ্যে আমার স্ত্রীও জানালার কাছে এসে গেছে। এমন সময় হঠাৎ জানালার পাশ থেকে ধোঁয়া উঠল।’
তিনি আরও বলেন, সে সময় একটাই ভয় লাগছিল, যদি ছাদের দরজা বন্ধ থাকে তাহলে কী হবে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য ভালো, গিয়ে দেখি ছাদের দরজা খোলা। কিন্তু ছাদে গিয়ে বিপত্তি দেখা দিল, আশপাশে এই ভবনের লাগোয়া কোনো ভবন নেই। আর ছাদে আছে দুটি রেস্তোরাঁ এবং নামাজ পড়ার স্থান। ছাদের তিন-চতুর্থাংশ জায়গাও খালি ছিল না। প্রথমেই ৫০ জনের মতো লোক সেখানে যায়। তাদের মধ্যে নারীই বেশি। সময় যত যাচ্ছিল আগুনের ধোঁয়া তত ওপরের দিকে উঠছিল। একপর্যায়ে শুধু ধোঁয়া নয়, আগুনের লেলিহান শিখা তখন ছাদের দিকে আসছে। আর শুরু হয়েছে চিৎকার।
আহমেদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারদিক। কেউ কেউ নিজেদের জামা খুলে পানিতে ভিজিয়ে চোখে-মুখে দিচ্ছিলেন। আগুন কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আমার স্ত্রী ও আমি মিলে তাদের বললাম, এখনো তো আমাদের বাঁচার সুযোগ আছে। কিন্তু এত উঁচু থেকে লাফ দিতে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু। একটু দেখি ফায়ার সার্ভিস আসে কি না। কিন্তু চিৎকারে, আহাজারিতে তখন চারদিকে ভয়ানক পরিস্থিতি হয়ে ওঠে। আমি শুনেছি, ছাদে থাকা দুজন লাফ দিয়েছিলেন। আমার মেয়েরা দেখেছে। এরপর থেকে ওরা ট্রমাটাইজড হয়ে গেছে। এখনো কথা বলতে পারছে না।’
