ফেনী সরকারি কলেজের ৪৭৭ শিক্ষার্থীর মাস্টার্সে ভর্তি অনিশ্চিত

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৬:০৯ পিএম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই স্নাতক চতুর্থ বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফেনী সরকারি কলেজের ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী। মাস্টার্স শেষ পর্বে কোনো বিভাগে আসন খালি না থাকায় প্রিলিমিনারি পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না। 
এদিকে সোমবার বিকেলে ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন প্রিলিমিনারি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স শেষ পর্বে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রাথমিক আবেদন করলেও কলেজের আসন খালি না থাকায় আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া রিলিজ স্লিপের আবেদন শুরু হলেও মেধাতালিকার জন্য তারা আবেদন করতে পারেনি। এখন চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ফেনীর কোনো কলেজে আবেদন করা যাচ্ছে না। ভর্তি হতে হলে কুমিল্লা কিংবা ঢাকার কোনো কলেজে আবেদন করতে হবে তাদের।

ফেনী সরকারি কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর প্রিলি ও মাস্টার্সের ভর্তি একই সঙ্গে হয়ে থাকে। এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্সে ভর্তি কার্যক্রম আগে শেষ করেছে। এতে নিয়মিত যারা অনার্স শেষ করেছে তারা ভর্তি হয়েছে। কিন্তু প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে অনার্সে ভর্তির পর। এখন কলেজের সবগুলো বিভাগের কোটা সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোনো বিভাগেই আবেদন করতে পারছে না।

সূত্র জানায়, নিয়মানুযায়ী একই সঙ্গে আবেদন করা হলে এক বিভাগে যতগুলো আসন রয়েছে তা থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং সেই শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। কিন্তু এবার আবেদন প্রক্রিয়া আলাদা হওয়াতে প্রিলিমিনারি শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সেশনের স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যায়ে ভর্তি গত বছরের ডিসেম্বরে মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯-২০ সেশনের প্রিলিমিনারি শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। এরমধ্যে মাস্টার্সের দুই ধাপে ভর্তি ইতোমধ্যে শেষ। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রিলিজ স্লিপের আবেদন শুরু হয়েছে। যার শেষ হবে ৫ মার্চ। এ সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে না পারলে মাস্টার্স এ ভর্তি হতে পারবে না।

ফেনী কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের মাস্টার্স পর্যায়ে বাংলা বিভাগে ৯০টি, ইংরেজি বিভাগে ৫০টি ইতিহাস বিভাগে ৫০টি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ১০০টি, দর্শনে ৫০টি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১৫০টি সমাজকর্মে ১৫০টি, অর্থনীতিতে ১৫০টি, হিসাববিজ্ঞানে ১৬০টি, ব্যবস্থাপনায় ১৬০টি, পদার্থবিজ্ঞানে ৫০টি, রসায়নে ৫০টি, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে ৫০টি, প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ৫০টি এবং গণিত বিভাগে ৫০টি আসন রয়েছে। যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে।

মানববন্ধনে কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের নুরুল করিম নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবার প্রিলির ফলাফল আগে দেওয়া হয়। পরে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলাফল দেওয়া হয়। তারপর আবেদনের নোটিশ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার অনার্সের আগে ফলাফল ঘোষণা করে ভর্তির নোটিশও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রিলির শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেনা। আমার বিভাগে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমি একজন হলে ফেনীর বাইরে গিয়ে ভর্তি হতে পারতাম। কিন্তু এ সমস্যা সব শিক্ষার্থীর। সবাইতো আর বাইরে যেতে পারবে না। আমাদের যেকোনো মূল্যে ভর্তির সুযোগ করে দিতে হবে।

রৌশন আরা শিল্পী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সমাজকর্মে ৬০ দিনের মতো মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হয়। আমরা মেয়েরা যারা আছি তাদের পক্ষে ফেনীর বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। এখান থেকে প্রিলি দিয়ে মাস্টার্স যদি অন্য জায়গায় করতে হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তির আর শেষ হবে না। এতজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে আমাদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত