শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করার সময় দেশ রূপান্তরের নকলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।
শফিউজ্জামান রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোয় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব অমিত রায়, শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার ও ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে।
রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, এ ঘটনা অবাধ ও মুক্ত সাংবাদিকতার পথে এক প্রকার বাধা। রানার মুক্তি দাবি করে শেরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, তা না হলে সাংবাদিক নেতারা আলোচনা করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব অমিত রায় বলেন, ওই সাংবাদিকের কোনো অপরাধ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। সাংবাদিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিকের বিচার বা সাজা দেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।
ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা বলেন, সাংবাদিক রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া শুধু নিন্দনীয়ই নয়, দুঃখজনক ও পীড়াদায়কও বটে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রানাকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সাংবাদিক রানার বিরুদ্ধে ইউএনও কার্যালয়ের অভিযোগ, তিনি ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় কর্মরত কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএ) শিলা আক্তার তাকে বাধা দিলে রানা তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হলে তার সঙ্গেও রানা অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর দেওয়া হলে নকলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রানাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর নকলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রানাকে ছয় মাসের কারাদ- দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
