হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ করা একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করিয়ে এক শিশুর জীবন এখন সংকটের মুখে। গত বুধবার বিকেলে উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস নামের হাসপাতালটিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালটির মালিকের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
শিশুটির স্বজনরা জানান, বুধবার ১২ বছর বয়সী ছেলে তোফায়েল আহমদ তামিমকে খতনা করাতে কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ক্লিনিকে যান নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকার উত্তর ফরিদপুর গ্রামের আব্দুস শহিদের স্ত্রী রোকসানা পারভীন। ক্লিনিকের চিকিৎসক জাহিরুল ইসলাম জয় খতনা করার সময় অতিরিক্ত মাংস কেটে ফেলেন।
এরপর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কয়েক দফা চেষ্টার পরও রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষ তাকে সিলেটে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রোকসানা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ক্লিনিকে কয়েক দফায় চেষ্টা পরও অবস্থা বেগতিক দেখে তাদের সিলেটে পাঠায়। সেখানে ভর্তির পর আরও এক ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করা হয়। তাতে রক্তক্ষরণ কিছুটা বন্ধ হলেও তার ছেলের অবস্থা ভালো নয়।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুস সামাদকে কয়েকবার ফোন করলে তিনি ধরেননি। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন দেলোয়ার বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন না পাওয়ায় চিকিৎসকের চেম্বার ছাড়া ক্লিনিকের বাকি অংশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নবীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোর্শেদ সরকার বলেন, তামিমের পরিবারের পক্ষে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। এসআই গৌতম ওই ক্লিনিকে গিয়ে তালাবদ্ধ পেয়েছেন।
