ভালুকায় গ্যাস সঙ্কটে বন্ধ হওয়ার পথে মিল-ফ্যাক্টরি

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৬:০১ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সরবরাহ অপ্রতুল ও প্রেসার কম থাকায় শিল্প এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে গ্যাস সঙ্কট থাকলে অনেক মিল মালিকরা তাদের মিল বন্ধে করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিন বিভিন্ন মিল পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় তিন শতাধিক শিল্প কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯০টি শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে। যার মাঝে প্রায় ৩০টি ড্রাইং ফ্যাক্টরি। গ্যাসের সরবরাহ অপ্রতুল ও প্রেসার কম থাকায় ড্রাইং মিলগুলোর উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। তাই আর্টি কম্পোজিট, গ্লোরি স্পিনিং মিল, লাবিব মিল, কনজিউমার নিটেক্স লি. ও শেফার্ড ইয়াং ড্রাইংসহ প্রায় ৩০টি ড্রাইং মিলে দিনের বেলা গ্যাসের লাইন চালু থাকলেও প্রেসার কম থাকায় মেশিন চালাতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের প্রেসার কম ও সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিকার চেয়ে তাইপে বাংলা ফেব্রিক্স লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরোয়ার হোসেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্টিভিশন কোম্পানি বরাবর ১০ পিএসআই গ্যাস সরবরাহের আবেদন করেন। আগে গ্যাসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মিল চালানো হতো। গ্যাসের চাপ কম থাকলে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ অথবা ডিজেল চালিত জেনারেটারের মাধ্যমে মিল চালানো হতো। বর্তমানে গ্যাস সঙ্কট, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়েছে। সাড়ে ৩০০ শ্রমিকের একটি মিলে আগে সারা দিনে বিদ্যুতের জন্য ১/২ লিটার ডিজেল লাগত। বর্তমানে গড়ে ১৬/১৭ লিটার লাগছে।

হাজীর বাজার এলাকার বাসার মালিক ও ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন জানান, মিল বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন। ফলে দেশে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই বেড়ে যেতে যাবে।

তাইপে বাংলা ফেব্রিক্স লি. এর ডিজিএম ইলিয়াছ হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ সঙ্কট থাকায় আমাদের ২৭টি মেশিনের মাঝে ২/১টি চালু রেখেছি। ফলে সঠিক সময় মাল উৎপাদন করতে পারছি না। এতে ভায়ারদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ হচ্ছে।

শেফার্ড গ্রুপের জিএম মোকলেছুর রহমান জানান, এ মিলটি শতভাগ রপ্তানিমুখী। বর্তমানে গ্যাস সঙ্কটে উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে মালের সঠিক কালার যেমন পাচ্ছি না এবং সঠিক সময়ে উৎপাদন করতেও পারছি না। ফলে ভায়ারদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ হচ্ছে।

এস এন এস সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক সুমন আহাম্মেদ জানান, আমরা লাইনে সারারাত গ্যাস পাচ্ছি না। ব্যবসা কিভাবে করব। দিনের বেলা যা পাচ্ছি তাতে পেসার কম।

আর্টি কম্পোজিটের মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, বর্তমান সঙ্কট অব্যাহত থাকলে আমার মতো অনেক মালিকরা বাধ্য হবেন তাদের মিল বন্ধ করতে।

তিতাস গ্যাস ডিস্টিভিশন লি. ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ম্যানেজার প্রকৌশলী শাহজাহান আলী জানান, প্রায় ১৮০ থেকে ১৯০টি ফেক্টোরিতে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। আমাদের মেইন লাইনে পিএসআই কিছু কম। যারা মেইন লাইনের কাছে আছেন তারা পিএসআই বেশি পান। রাতে ময়মনসিংহ ২১০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ লাইনের ১১০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস বন্ধ রাখা হয়। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। সমস্যাটি শুধু ভালুকার নয়, সারা দেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত