দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন রংপুরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
শনিবার (৯ মার্চ) দুপুরে রংপুরের স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণসহ অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর সাধারণ সম্পাদক ফকরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, বর্তমানে যেভাবে মামলা মোকাদ্দমা হচ্ছে তাতে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। আজ পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম শেরপুরের একজন সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনে, তথ্য নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। এসিল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে জেলে পাঠিয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আর্টিকেল ৭ এ বলা আছে, রাষ্ট্রের কোনো গোপন তথ্য এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মানহানি কর, কোনো তথ্য ছাড়া সকল তথ্য দিতে বাধ্য থাকিবে। ওই সাংবাদিক জাইকা প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য নিতে গিয়ে তাকে জেলে নিতে হলো কেন? আমরা সেটার জন্য প্রতিবাদ জানাই। ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যে অন্যায় করা হয়েছে, আপনারা সকল সাংবাদিকের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত। কথায় কথায় সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়।
‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানি জানান, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকরা অবাধ তথ্য সংগ্রহণের জন্য যেকোনো স্থানে যাবে। এটা তাদের অধিকার। সেই তথ্য নিতে গিয়ে যদি সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়, সেটা তাদের অধিকারকে খর্ব করার শামিল। বর্তমান সমাজে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা থাকায় এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
দুর্নীতি প্রতিরোধ রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক বেলাল আহম্মেদ বলেন, তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। সরকারের দেওয়া আইনে তথ্য চাওয়াকে তারা (প্রশাসন) অপরাধ হিসাবে গণ্য করে। তারা আইনটিকে বির্তকিত করেছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক ও অবাধ তথ্য প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।
রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সভাপতি ও একাত্তর টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান শাহ বায়েজিদ আহম্মেদ জানান, এভাবে গণমাধ্যমের ওপর দমন নিপীরন যা সাংবাদিক সমাজ আর মেনে নিবে না। এখনই সময় এসেছে তীব্র আন্দোলন ও গণপ্রতিরোধের। আসুন আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ হই। সেই সাথে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এছাড়াও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার নকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র নিকট তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করার জেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিক রানাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার নকলার সহকারী কশিনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
