সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আবর্জনার স্তুপ এখন ফুল বাগান

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৭:৫১ পিএম

কিছুদিন আগেও ভূমি অফিসের জায়গাটি পরিত্যক্ত ছিল। ছিল ময়লা আবর্জনার স্তুপ। সারাক্ষণ ভনভন করত মশা-মাছি। আবর্জনার গন্ধে যার পাশ দিয়ে কেউ যাতায়াত করত না, সেখানে আজ শোভা পাচ্ছে বাহারী ফুলের সৌন্দর্য্যমণ্ডিত দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। রয়েছে নানা রকম সবজির সমারোহ। পরিত্যক্ত জায়গায় ফুল আর সবুজের সমারোহে মুগ্ধ হচ্ছেন সকলেই। আর দৃষ্টিন্দন এই কাজটি করেছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন সুলতানা নিপা।

জানা যায়, ভূমি অফিসের পরিত্যক্ত জায়গাটি শোভাবর্ধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে গিয়েছিলেন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুদা। কিন্তু কাজ শুরু করার আগেই বদলিজনিত কারণে তিনি অন্যত্র চলে যান। নাসরিন সুলতানা নিপা মুরাদনগরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর থেকেই অফিসের জায়গাটির প্রতি নজর দেন। তিনি জায়গাটির পরিবেশ সুন্দর করার চিন্তা ভাবনা করেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নিজ উদ্যোগে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুবনঘর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সামসুল হকের সহযোগিতায় গড়ে তোলেন ফুলের বাগান। বাগানটিতে গোলাপ, গাঁদা, জবা, ডালিয়া, ক্রিসমাসসহ প্রায় বহু প্রজাতির ফুল গাছ রয়েছে। পাশাপাশি চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি। শুধু পরিত্যক্ত জায়গাটি নয়, অফিস বাউন্ডারির বাহিরে ও প্রবেশদ্বারে লাগিয়েছেন হরেক রকমের ফুল গাছ।

কৃষি উদ্যোক্তা সামসুল হক বলেন, আগের এসিল্যান্ড নাজমুল হুদা স্যার আমাকে ডেকে জায়গাটি পরিষ্কার করে ফুল ও সবজির বাগান করতে বলেন। বাগান করার প্রতি ওনার আগ্রহ দেখে বাগান তৈরা করতে রাজি হই। কিন্ত স্যার বদলি হয়ে চলে যাওয়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। তবে বর্তমান এসিল্যান্ড নাসরিন সুলতানা নিপা স্যারের ফুলবাগান ও কৃষির প্রতি আগ্রহ অনেক। স্যারের আগ্রহের কারণেই আজকে পরিত্যক্ত জায়গাটিতে ফুল ও সবজির বাগান করতে পেরেছি। অনেকেই বাগানটি দেখতে আসেন। এসিল্যান্ড স্যারও নিয়মিত বাগানটি ঘুরে দেখেন।

ভূমি অফিসের কর্মচারীরা বলেন, জায়গাটিতে এক সময় ময়লার স্তুপ ছিল। এসিল্যান্ড স্যার এসেই অফিস চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পরে অফিস চত্বরসহ পরিত্যক্ত জায়গাটিতে বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল ও সবজির চারা রোপণ করেন। জায়গাটি এখন দেখে বুঝার উপায় নেই যে, এই জায়গাতে একসময় ময়লার স্তুপ ছিল।

অফিসে নামজারি কাজের জন্য আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে আবর্জনার কারণে এখান থেকে অনেক দুর্গন্ধ আসত। এখন জায়গাটিতে গাছ লাগিয়ে সুন্দর করা হয়েছে। হরেক রকমের ফুলও ফুটেছে। এমন একটি সুন্দর কাজ করার জন্য এসিল্যান্ড স্যারকে ধন্যবাদ।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন সুলতানা নিপা বলেন, আমার কাছে মনে হয় কাজের পরিবেশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সরকারি অফিসগুলোতে বিশেষ করে ভূমি অফিসে অনেক সেবাগ্রহীতা আসেন। তখন তাদের সেবা নিতে অপেক্ষা করতে হয়। সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষা যেন ক্লান্তিকর না হয় এই জন্য পরিবেশটা সুন্দর হওয়া খুব জরুরি।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোনো জমি যেন ফাঁকা না থাকে। তাই ফুলের বাগানের পাশাপাশি সবজির বাগান ও বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণ করেছি। আগে ভূমি অফিস কম্পাউন্ডের আশপাশে ধুলাবালি, পেছনে ময়লা-আবর্জনা স্তুপ ছিল। এখন পরিবেশটা মনোরম হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত