শান্তিদূত হতে চান এরদোয়ান

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৭ পিএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার তুরস্ক সফর শুরু করেছেন। এ দিন রাজধানী ইস্তাম্বুলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। এ সময় এরদোয়ান বলেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনকে এক টেবিলে বসিয়ে শান্তি সম্মেলন আয়োজন করতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক একচ্ছত্রভাবে মস্কোর সমালোচনায় অংশ না নিয়ে কৌশলগত ভূমিকা গ্রহণ করে। পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে একাট্টা হয়ে রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে সক্রিয় রয়েছে; তেমন ভূমিকায় এখনো দেখা যায়নি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে। যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেখা গেছে। তিনি সব সময় দুপক্ষকে আলোচনায় বসে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে বলে যাচ্ছেন। এবারও জেলেনস্কির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নিজের সেই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখলেন তিনি।

জেলেনস্কি ও এরদোয়ান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি, কৃষ্ণ সাগরে জাহাজের নিরাপত্তা, অকার্যকর হয়ে যাওয়া শস্যচুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা করেন। যুদ্ধের মধ্যে শস্যচুক্তির মধ্যস্ততা করেছিলেন এরদোয়ানই, যা পরে ভেস্তে যায়।

জেলেনস্কিকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের যাবতীয় পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। আমি পরিষ্কারভাবে আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছি।’ জেলেনস্কির সফরটি এমন সময় হলো, যখন পুতিনেরও তুরস্ক সফরের কথা শোনা যাচ্ছে। আগামী ১৫-১৭ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরই এই সফর হতে পারে। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি তুরস্কের সমর্থনের কথা জানিয়ে এরদোয়ান সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আলোচনার ভিত্তিতে যুদ্ধ শেষ করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অবদান রাখছি। আমরা একটি শান্তি সম্মেলন আয়োজন করতে প্রস্তুত রয়েছি, যেখানে রাশিয়াও উপস্থিত থাকবে।’ ২০২২ সালেও দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি আলোচনা শুরু করে তুরস্ক। তবে এতে অগ্রগতি আসেনি। 

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা। যেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধি থাকছেন না। তবে মিত্রদের সঙ্গে ইউক্রেনের আলোচনা শেষের পর রুশ প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। তুরস্কের প্রস্তাব নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘যারা অবরোধ করছে, ধ্বংস করছে এবং হত্যা করছে; তাদের কীভাবে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। আমরা ফলাফল চাই শুধু ন্যায্য শান্তি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত