সামনেই পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন, যা নিয়ে এখন চলছে জোরছে প্রচারণা। এরমধ্যে চলে এসেছে কাঙ্খিত প্রার্থী তালিকা। তবে এবারের প্রার্থী তালিকা সামনে আসতে দেখা গেল, দেব পদত্যাগ করার পর ফের ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় নাম নেই মিমি চক্রবর্তীর। বাদ গিয়েছেন নুসরাত জাহানও। বরং সেই তালিকায় নতুন যোগ হয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হুগলি থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। রচনার বিপরীতে এই আসনে রয়েছেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়।
বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে নুসরাত জাহানকে নিয়ে। গত ১ মাসে যখন উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি, তখন একবারও সন্দেশখালিতে দেখা যায়নি নুসরাতকে। বিগত পাঁচ বছরে বসিরহাটেই গিয়েছিলেন হাতেগোনা কয়েকবার। নিখিল জৈনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ, যশ দাশগুপ্তর সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ না হয়েই সন্তানের জন্ম, এসব বিতর্কেই ঘিরে ছিলেন তিনি এই পাঁচ বছরে। কখনই বা কাজ করবেন মানুষের জন্য? নুসরাতের জায়গায় বসিরহাট কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ালেন ভূমিপুত্র হাজি নুরুল ইসলাম।
রাজনীতির মঞ্চে নুসরাতের আসা অবার করেছিল অনেককেই। আসলে শুরু থেকেই তিনি বিতর্কে ঘেরা। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডে যার নাম জড়িয়েছে, তাকে কীভাবে দলে টানতে পারেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল দলের অন্দরেই। তবে ওই যে কথায় বলে, গ্ল্যামারই সব এখন! সেই গ্ল্যামারের গুণেই ভোটে বিশাল মার্জিনে জিতে নেন নুসরাত জাহান। কিন্তু ভোটে জিতে চলে যান বিয়ে করতে বিদেশে। পরে সেই বিয়েটাকেই আবার অবৈধ বলেন।
সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়তেও নুসরাত নিজের নাম জানিয়েছেন ‘আমি নুসরাত জাহান রুহি জৈন’। তারপর যখন ঘটা করে, বিয়েটাকেই অস্বীকার করে নেন, তখন অস্বস্তিতে পড়ে যায় দল। এই কদিন আগেও, তার নাম জড়িয়েছে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতিতে। ইডি-র মুখোমুখিও হয়েছেন দু দুবার।
আর প্রার্থী তালিকা আসতেই বোঝা গেল, আর এই টলি নায়িকার উপর ভরসা করতে পারছেন না মমতা। বরং, তার কাছে ক্লিন ইমেজের, নারীদের একটু কষ্ট শুনেই কেঁদে ফেলা রচনাই বেশি আপন।
যাদবপুর কেন্দ্রে আবার মিমি চক্রবর্তীর জায়গা নিলেন সায়নী ঘোষ। মিমি অবশ্য, নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি আর দাঁড়াতে চান না ভোটে। এছাড়াও ঘাটাল থেকে লড়ছেন দেব, মেদিনীপুর থেকে জুন মালিয়া, পুরুলিয়া থেকে শতাব্দী।