গুরুত্ব হারাচ্ছেন দেশীয় নায়িকারা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৪০ এএম

ঢাকাই চলচ্চিত্রে কদর কমে যাচ্ছে দেশীয় নায়িকাদের, হারাচ্ছেন আস্থা। ব্যক্তিগত বিতর্ক, শিডিউল জটিলতা, সময় মেনে না চলা, অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন জ্ঞান করা, মিনারেল পানি দিয়ে গোসল করার মতো বায়না ইত্যাদি কারণে নির্মাতারা কলকাতার অভিনয়শিল্পীদের দিকে ঝুঁকছেন। বরাবরই কলকাতার নায়ক-নায়িকারা এদেশে চলচ্চিত্র করে গেছেন কিংবা ঢাকার নায়ক-নায়িকারা কলকাতায় গিয়ে অভিনয় করেছেন, করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার নায়িকাদের ঢাকাই চলচ্চিত্রে আগমন বহুগুণ বেড়েছে। এটাকে অনেকেই ‘অ্যালার্মিং’ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

গত ঈদে শাকিব খানের প্রিয়তমা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই সিনেমায় কলকাতার একজন টেলিভিশন অভিনেত্রী শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেন। এর আগে অন্তরাত্মা চলচ্চিত্রে দর্শনা বণিক ছিলেন শাকিবের নায়িকা। এ পর্যন্ত শাকিব খানের সঙ্গেই কলকাতার নায়িকারা বেশি অভিনয় করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন শ্রাবন্তী, সায়ন্তিকা, ১৩ বছর আগে এফআই মানিকের ‘সবার উপরে মা’ ছবিতে স্বস্তিকাও শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন। সর্বশেষ সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র দরদ-এ শাকিবের নায়িকা রয়েছেন সোনাল চৌহান।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকামুখী স্রোত বেড়েছে কলকাতার শিল্পীদের। তবে এটা দেশীয় নির্মাতাদের আগ্রহেই হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ঋত্বিকা, কৌশানি, দর্শনা বণিক, সায়ন্তিকা, ইধিকা পালসহ টালিগঞ্জের শীর্ষ সারির প্রায় সব নায়িকাই এদেশে আসছেন। এক বছরের কম সময়ে ইধিকা পাল বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা করে ফেলেছেন। এছাড়াও আসন্ন অনেকগুলো নতুন সিনেমায় নির্মাতা কলকাতার নায়িকাদের নিয়েই সিনেমা বানানোর কথা ভেবে রাখছেন।

ঢাকাই ছবিতে কলকাতার নায়িকাদের কদর বাড়ার কারণ সম্পর্কে দেশীয় নির্মাতাদের মত, কলকাতার নায়িকাদের নিয়ে কাজ করলে ঝামেলামুক্ত যথাসময়ে কাজ শেষ করা যায়। দেশীয় নায়িকাদের নানা বায়না থাকে, ঠিক টাইমে সেটে উপস্থিত হন না, শিডিউল ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। এছাড়াও দেশীয় নায়িকারা নানা কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে আনছেন।

শাকিব খান বর্তমানে দেশীয় কোনো নায়িকার সঙ্গেই কাজ করছেন না। সিয়াম, জায়েদ খান, নিরব, শরীফুল রাজ কলকাতার নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশীয় নায়িকাদের এসব জটিলতার ফাঁকেই কলকাতার নায়িকারা তাদের জায়গা দখল করে ফেলছেন। নানা সময়ে শিডিউল জটিলতার খবর জানা গেলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কে এসেছেন বুবলী, পূজা চেরী, দীঘি, মাহি, নুসরাত ফারিয়া, পরীমণিসহ সম্ভাবনাময় ও উঠতি নায়িকারা। মাহির বিরুদ্ধে একজন প্রযোজক অভিযোগ তুলেছিলেন নায়িকার গোসলের জন্য নাকি মিনারেল পানি রাখতে হবে। পূজা চেরী সাম্প্রতিক সময়ে দুজন নায়কের সঙ্গে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। দীঘি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন- এমন খবর কদিন আগে প্রকাশ পেয়েছিল। বুবলী অভিনয় করছেন টানা, তবে শাকিবের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে শীর্ষ নায়কের সঙ্গে আর স্ক্রিন শেয়ার করা হচ্ছে না।

নির্মাতা সৈকত নাসিরের মতে, ‘যখন একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয় প্রকট হয়ে ওঠে। তখন সেটা শুটিংয়ে ঝামেলা ফেলবেই। তবে আমি মনে করি, কলকাতার নায়িকাদের চেয়ে বাংলাদেশের নাটকের নায়িকাদের জনপ্রিয়তাই অনেক বেশি। কেন তাদের নেওয়া হয় না, তা আমি জানি না। তবে বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পীদেরই প্রাধান্য দেব।’

বাংলাদেশের নায়িকারা শুটিং সেটে নানা রকম ঝামেলা করেন, নানা রকম বায়না রাখেন আবার শিডিউল ফাঁসিয়ে দেন। ফলে কলকাতা থেকে নায়িকারা এসে টাইম টু টাইম কাজ করে চলে যান কোনো ঝামেলা নেই। এমনই ভাষ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমনের। তিনি বললেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশে নায়িকা সংকট। আর বাংলাদেশি নায়িকারা অধিকাংশই ব্যক্তিগত ঝামেলায় জড়িয়ে গেছেন। বিচ্ছেদ, মামলা, টাইমিং সমস্যা রয়েছে। এসব কারণে নির্মাতারা ঝামেলামুক্তভাবে শুটিং শেষ করতে ভারতীয় নায়িকাদের নিয়ে আসছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিত্রনায়ক বললেন, ‘এই স্রোত আরও বাড়বে। কেননা নায়িকা সংকট, ইমেজ সংকট; আর বাজেট একটা বিষয়। একজন নায়কের সঙ্গে যে ধরনের নায়িকা মানাবে, সেটা বাংলাদেশে নিতে গেলে বাজেটে কুলাবে না। কিন্তু অনায়াসে কলকাতা থেকে নায়িকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া মিডিয়া কাভারেজের বিষয়টিও হয়তো কলকাতার নায়িকাকে নিলে বেশি পাওয়া যায়।’

অন্যদিকে জয়া আহসান, রাফিয়াত রশীদ মিথিলা, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, আজমেরী হক বাঁধনরাও ভারতের চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমান মানিক কলকাতার নায়িকা কৌশানিকে নিয়ে ‘ডার্ক ওয়ার্ল্ড’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। এই ছবিতে মাহিয়া মাহির অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। কলকাতার নায়িকা নিয়ে কাজ করে মানিকের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত