কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খনন করা ঘাগৈর খালপাড়সহ ফসলি জমির মাটি বাড়তি করে কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মৌকরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক ভূঁইয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ মাটি কাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউপির চড়িয়াবাজার-তুগরিয়া ঘাগৈর খালের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটারের কালাচৌ, চাটিতলা, আটিয়াবাড়ি ও কাকৈরতলা এলাকায় বাড়তি গভীর করে মাটি কেটে নেন তারা। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার মানুষের শত শত একর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে, এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এবং অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘাগৈর খালের চড়িয়াবাজার-তুগরিয়া পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটারের খনন কাজ শেষ হয় ২০২২-২৩ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে। যার খনন কাজ পান মেসার্স সালমান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক ভূঁইয়া।
খননের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কৃষি জমির মালিকদের না জানিয়ে তাদের ১০ হাত আবাদি কৃষি জমিও খনন করে ফেলে। খাল খনন করার পর কৃষকদের আরও ১৫-২০ হাত আবাদি জমির ওপর মাঠি স্তূপ করে রাখা হয়। এতে করে কৃষকরা তিন ফসলি জমিতে আবাদ করতে পারেননি। ফলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হন।
বর্তমানে সেই চেয়ারম্যান ইসহাক ভূঁইয়া মাটি কাটার একটি সিন্ডিকেটকে সঙ্গে নিয়ে ‘সরকারি মাটি কেনা হয়েছে’ বলে কৃষকদের না জানিয়ে প্রকাশ্যে ভেকু মেশিন দিয়ে খালপাড়ের মাটি কাটছেন। ট্রাক্টরে করে সেই মাটি নেওয়ার জন্য আটিয়াবাড়ি-কাকৈরতলা কাঁচা সড়কটি কেটে খালের ওপর মাটি ফেলে রাস্তাও তৈরি করেছেন। সড়কটি কেটে ফেলায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খালপাড়ের মাটি কেটে নেওয়ায় উচ্চতায় পার্শ্ববর্তী আবাদি জমির সমান হয়ে গেছে খালপাড়। এতে করে বর্ষাকালে খালের পানি কৃষি জমিতে উঠে কৃষকদের ফসল নষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে আটিয়াবাড়ি গ্রামের শফিকুর রহমান বলেন, খাল কাটার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালমান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইসহাক ভূঁইয়ার ছেলে অন্তর, পুজকরা গ্রামের রহমত, ঝন্টু ও জোবায়েরের নেতৃত্বে মাটি কাটা সিন্ডিকেট জোরপূর্বক আমার জমির ওপর স্তূপ করে রাখা খালপাড়ের মাটি কেটে নিচ্ছে। আমি ও আমার স্ত্রী খোরশেদা রহমান বাধা দিলে মাটি কাটা সিন্ডিকেটের ২০-৩০ জনের একটি গ্রুপ গালমন্দ করে এবং আমাদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী মাটি কাটা ভেকু মেশিনের সামনে অবস্থান করলে, ভেকু মেশিনের চালক আমার স্ত্রীর বুক পর্যন্ত মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ ৪-৫ জন আহত হয়। পরে ঘটনা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
কাকৈরতলা গ্রামের দরিদ্র কৃষক আতরজ্জামান বলেন, খালের পাড়ে আমার ৪ শতক জমি রয়েছে। খাল কাটার সময় আমার জমির ওপর খাল কাটা হয় এবং মাটি স্তূপ করে রাখে। এতে করে আমি ফসলি জমি আবাদ করতে না পারায় আমাদের অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে মাটি কাটা সিন্ডিকেট খালপাড়ের এবং আমার জমির ওপর স্তূপ করে রাখা মাটি নিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, সরকারিভাবে আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুবের কাছ থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় খালপাড়ের মাটি কিনেছি। যা এখন বিক্রি করছি।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে এ মাটি বিক্রি করা হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, এক বছর আগে খালপাড়ের মাটিগুলো বিক্রি করা হয়। তখন আমি এখানকার দায়িত্বে ছিলাম না। তারপরও যদি দরপত্রের বাইরে বেশি মাটি কাটে তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা জেলা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাটি যাতে বাড়তি গভীর করে না কাটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।