‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটিসহ এ খাতে ভুলনীতিসহ নানা কারণে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভর্তুকি বাড়ছে। যার দায় জনগণের উপর চাপিয়ে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করছে সরকার। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে জনগনের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। অথচ মূল্যবৃদ্ধি না করে অনেক বিকল্প ছিল।’
'সাম্প্রতিক বিদ্যুতোর মূল্যবৃদ্ধি, ভর্তুকি সমন্বয়ে অন্য বিকল্প আছে কী' শীর্ষক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথাগুলো বলেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
আজ বুধবার (১৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, এর প্রভাব, বিকল্প উপায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে এটিকে সমন্বয় বলছে। বাস্তবতা হলো এটি মূল্যবৃদ্ধি। ভর্তুকি সমন্বয়ের নামে এই মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে ভোক্তার ব্যয় বেড়েছে।
'বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের কারণে এভাবে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সমন্বয় করা গেলে বিদ্যুতের মূল্য এভাবে বৃদ্ধির দরকার হতো না। এটা সরকারের প্রথম অগ্রাধিকারে থাকা দরকার। কিন্তু সরকার ধাপে ধাপে আরও মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে। সেটা হলে ভোক্তার জন্য আরও বড় নাভিশ্বাস তৈরি করবে,' যোগ করেন তিনি।
মোয়াজ্জেম বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গাগুলো আস্তে আস্তে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে আসছে। এটা দূর্ভাগ্যজনক।
তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কেনা, এলএনজি ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে ঝোক এবং বিদ্যুৎ কেনায় প্রতিযোগিতার অভাব। বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, সর্বশেষ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি পরিবারে মাসিক ব্যয় গড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্পে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ, ব্যবসা ও অফিসে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শিল্পে ১০ শতাংশ এবং সেচে ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও এর সঙ্গে বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ভর্তুকি সমন্বয়ের জন্য সরকারের হাতে চারটি বিকল্প রয়েছে। এগুলো হলো-সময় মতো বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা, বেসরকারি খাতে নতুন বিদ্যুৎ কিনতে নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট শর্তে বিদ্যু কেনার চুক্তি করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রয়োজনে খুবই সামান্য পরিমানে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা। এগুলো বাস্তবায়ন করলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ খাতে আর ভর্তুকির প্রয়য়োজন পড়বে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি, মাশফিক আহসান হৃদয়, প্রোগ্রাম সহযোগী ফয়সাল কাইয়ুম প্রমুখ।
