নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, আমার বাবা এ কে এম সামসুজ্জোহা ৩৭ বছর আগে মারা গিয়েছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন, ভাষাসৈনিক, বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে বুকে গুলি খেয়েছেন। যার কথা বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে বার বার লিখে গেছেন। জাতির পিতার কন্যাও তার বক্তব্যে যার কথা বলেছেন।
৬ দফা আন্দোলনের যে সমাবেশ হয়েছিল নারায়ণঘঞ্জ টাউন হল ময়দানে সেটার সভাপতিত্ব করেছে আমার বাবা সামসুজ্জোহা। আমি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে ৬ দফা মঞ্চ করব। দলমত নির্বিশেষে সেখানে নারায়ণগঞ্জের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে সঠিক ইতিহাস জেনে আমাদের প্রতি সম্মান দেখায়। গত ১০ বছর ধরে আমার ও আমার পরিবার সম্পর্কে অনেক খারাপ কথা বলছে। তাদের একজন চেক জালিয়াতির কারণে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটেছেন। বাকি দুজনের একজন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এক রাজাকারপুত্র। আমি কখনো কোথাও এর প্রতিবাদ করিনি। কারণ আমি তাদের কাউন্ট করি না। কিন্তু ৭ মার্চ ছিল আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। সেদিন হঠাৎ করে আমার বাবা ও দাদুর সম্পর্কে খুব আপত্তিকর কথা বলা হয়েছে। ইতিহাসটাকেই বিকৃতি করা হয়েছে। আমি ঘৃণাভরে তাদের এই বক্তব্য প্রত্যাখান করছি। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসী ও সৃষ্টিকর্তার কাছে এর বিচার দিলাম।
গতকাল বুধবার (১৩ মার্চ) ইফতারের আগে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত দুই সাংবাদিকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
শামীম ওসমান আরও বলেন, বার বার নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, আমি অনুরোধ করব তাদের কাছে যে আপনাদের বয়স হয়েছে, এবার বন্ধ করেন। আমি যখন প্রতি মুহূর্তে চিন্তা করছি আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। আপনারা আমার চেয়ে বয়সে বড়। ভুল করলে ভুল স্বীকার করাটা লজ্জার কিছু না। কিন্তু ভুলটাকে স্টাবলিস্ট করলে লজ্জার বিষয়, এটা অন্যায়। আমি বিশ্বাস করি ওনারা ওনাদের ভুল স্বীকার করবেন। আর আমি দু-একদিনের মধ্যে সকল ডকুমেন্টস নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে সকল সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করব।
